শিরোনাম

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাণ্ডব, যুবদল নেতাসহ আহত ৬

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাণ্ডব, যুবদল নেতাসহ আহত ৬

কুমিল্লার মুরাদনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় ইউপি সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা এবং লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রামের সৌদিয়াপাড়া স্টেশন মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন—পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওমর আলী (৭০), ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জিয়াউর রহমান (৩৫), ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম (৩৭), কোরবানপুর গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে আমির হোসেন (৩৮), দানু মিয়ার ছেলে আল আমিন (৪৮) এবং শাহ জাহানের ছেলে রুবেল (২৮)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কোরবানপুর গ্রামের ৩ ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে বাঙ্গরা বাজার থানা থেকে বাড়ি ফেরার পথে জিয়াউর রহমান ও রেজাউল করিমকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লোকজনের বিরুদ্ধে।

এর জের ধরে শনিবার সকালে জিয়াউর রহমান ও রেজাউল করিমের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কোরবানপুরের সৌদিয়াপাড়া স্টেশন মোড়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় আমির হোসেনের মুখে দা দিয়ে আঘাত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ইউপি সদস্য ওমর আলী ও আল আমিনও মারধরের শিকার হন। একই ঘটনায় হামলা করতে আসা রুবেল নামের এক যুবকও আহত হন।

পরে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লোকজন পাল্টা ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা সরে যান। খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা-ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটের অভিযোগও ওঠে।

তবে সংঘর্ষের কারণ ও হামলার সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রনি অভিযোগ করেন, জিয়াউর রহমান মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁর দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যায় মাদক বিক্রির সময় স্থানীয় মাদকবিরোধী সংগঠনের লোকজন জিয়াউর রহমান ও রেজাউল করিমকে মারধর করেন। এ সময় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুই যুবক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এর জের ধরে শনিবার সকালে জিয়াউর রহমান ও রেজাউল করিমের পক্ষের লোকজন হামলা চালান বলে দাবি করেন তিনি। হামলার সময় বাড়িঘর ও দোকানপাট থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রনি।

অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে রেজাউল করিমকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যাওয়ার পথে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন তাঁদের উদ্দেশে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন। পরে রাতে থানার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই বাঙ্গরা বাজার থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।

পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুকলাল দেবনাথ বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য আগামী মঙ্গলবার দুই পক্ষকে নিয়ে বসার কথা ছিল। এর মধ্যেই আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.কে.এম কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর