পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ফুলতলা পানিডুবি দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদরাসার জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমি দখলের চেষ্টা বন্ধ ও মাদরাসার সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মাদরাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
সোমবার দুপুরে মাদরাসার সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ৪৩ বছর ধরে ওই জমি তাদের দখলে রয়েছে। নিয়মিতভাবে জমির খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ১৯৮৩ সালে ময়জউদ্দিনের বাবা মহিরউদ্দিন জমিটি মাদরাসার নামে দান করেন।
তবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত শনিবার ময়জউদ্দিন লোকজন নিয়ে ওই জমিতে বালু ফেলতে শুরু করেন। এতে মাদরাসার সামনে থাকা প্রায় ১০টি দোকানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে কয়েকটি দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার লাভলী বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি মাদরাসার দখলে রয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে। হঠাৎ করে ময়জউদ্দিন ওই জমিতে বালু ফেলে দখলের চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে মাদরাসার সামনে প্রতিষ্ঠানটির তৈরি দোকানগুলোতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। জমি রক্ষা ও দখলের চেষ্টা বন্ধে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মাদরাসার সভাপতি ফরহাদ হোসেন বলেন, মাদরাসার জমি দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়েছে। মাদরাসার জমি উদ্ধার, বন্ধ করে দেওয়া দোকানগুলো খুলে দেওয়া এবং শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিন, তাঁর ছেলে ও কয়েকজন সহযোগী মিলে মাদরাসার দোকানগুলো দখল করে সেখানে বালু ফেলেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ময়জউদ্দিন বলেন, দলের কোনো প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, জমিটি তাঁদের এবং এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ দিয়ে আসছেন। গত শনিবার তাঁরা জমিটি দখলে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে এবং প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা পরিষ্কার হবে।