শিরোনাম

এনসিটি চুক্তি বাতিলে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময়, পরদিন থেকে আমরণ অনশনে শ্রমিকরা

এনসিটি চুক্তি বাতিলে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময়, পরদিন থেকে আমরণ অনশনে শ্রমিকরা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের দাবিতে আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বন্দর এলাকার ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার প্রাঙ্গণে প্রতীকী গণঅনশন কর্মসূচি শেষে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। চুক্তি বাতিলের বিষয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিতে সরকারকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন তাঁরা।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘সরকারকে আমরা ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত আলোচনার সময় দিয়েছি। এর মধ্যে কোনো উদ্যোগ নেওয়া না হলে ১৯ অক্টোবর এখানেই আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে।’

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি পরিচালনার চুক্তি বাতিল এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরির নিশ্চয়তার দাবিতে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে সোমবার বেলা ১১টার পর প্রতীকী গণঅনশন শুরু হয়।

কর্মসূচিতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, আলোচনার জন্য সরকারকে সময় দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ কারণে তাঁরা অনশনে বসতে বাধ্য হয়েছেন। সরকার আলোচনায় না এলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, জিবুতিসহ বিভিন্ন দেশে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার চুক্তিও বাতিল করতে হবে।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আরেক নেতা ইব্রাহিম খোকন বলেন, এনসিটি পরিচালনার চুক্তিতে কী শর্ত রয়েছে, তা শ্রমিকেরা জানেন না। দেশের জনগণও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সরকারকে অবিলম্বে চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নিতে হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে এনসিটি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি সই হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ঈসা কাজিম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি সইয়ের দিন বিকেলেই বন্দর ভবনের প্রধান প্রবেশপথের কাছে বিক্ষোভ মিছিল থেকে অনশন কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

সোমবারের গণঅনশন কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন সেলিম, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবীর মিন্টু, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি অশোক সাহা এবং বাসদ নেতা আল কাদেরী জয়।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর