শিরোনাম

কুষ্টিয়া মেডিকেলে ফের হামলা অভিযুক্তদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি

কুষ্টিয়া মেডিকেলে ফের হামলা অভিযুক্তদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি
ছবি প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাসহ দুই ভাইয়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বৃদ্ধ আতিয়ার শেখের মৃত্যু ও তাঁর মরদেহ অবমাননার ঘটনার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ শেয়ার করার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, এমনকি অভিযোগ প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিও উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও সমাজসেবী সোহেল রানা তাঁর চিকিৎসাধীন ছেলেকে দেখতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। এ সময় একদল শিক্ষার্থী তাঁকে ও তাঁর ছোট ভাই সোহাগকে ঘিরে ধরে জোরপূর্বক অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাঁদের দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি থেকে আত্মরক্ষার জন্য সোহাগ হাসপাতালের বাইরে চলে যান। পরে তিনি আত্মরক্ষার জন্য ডাব কাটার দা হাতে নিলে হামলাকারীরা পিছু হটে বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ফটক বন্ধ করে সোহেল রানার ওপর ফের হামলা ও নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় সোহেল রানার মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বমি হওয়ার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বৃদ্ধ আতিয়ার শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাঁর স্বজনদের সঙ্গে সংঘর্ষ, মরদেহ অবমাননা এবং তাঁর ছেলে রুহুল আমিনকে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগে কুষ্টিয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ শেয়ার করাকে কেন্দ্র করেই নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোহেল রানা ও তাঁর ভাইয়ের ওপর হামলায় আল রাহাত ওরফে রোমিও, শাহাদাত হোসেন মেহেদী এবং মটু ওরফে চিংকু মাস্তানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা প্রয়োজন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার এবং ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, আহতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিচয়-নির্বিশেষে আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর