এই দেশ, এই মা আর মাটি—কেবল আমারই!এই দেশ কারও একার নয়, এই মাটি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। অথচ আমাদের আচরণ দেখে মনে হয়, দেশটা যেন শুধু ক্ষমতাবানদের, রাষ্ট্রের সব অধিকার যেন শুধু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষের জন্য। অন্যদের যেন এই মাটিতে বেঁচে থাকার, নিজেদের মত প্রকাশের, এমনকি মৃত্যুর পর শেষ বিদায় নেওয়ারও অধিকার নেই!
আমার আমি ছাড়া আর কিছুই নেই—এই আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতা আজ আমাদের সমাজ, রাজনীতি ও মানবিক সম্পর্ককে গ্রাস করছে। কর্ম, নীতি, আদর্শ, সততা ও গুণের মূল্যায়ন করার মতো সামাজিক পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। আমরা সবাই যেন নিজ নিজ গোষ্ঠীর প্রশংসা, নেতার গুণগান আর প্রতিপক্ষকে অপমান করার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। কে কতটা যোগ্য, কে মানুষের জন্য কী করেছেন, কে বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন—সেসব প্রশ্নের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে কে কোন দলের, কে কার অনুসারী, কে ক্ষমতার কাছের মানুষ।
এমন সমাজে মানুষের ব্যক্তিগত অর্জন, মানবিক গুণ কিংবা অবদান নয়; বরং রাজনৈতিক পরিচয়ই হয়ে ওঠে তার মূল্যায়নের প্রধান মাপকাঠি। আর সেই পরিচয়ই যদি কারও জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার পিছু ছাড়তে না চায়, তবে আমাদের সভ্যতা, মানবিকতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির অর্জন কোথায়?
মৃত্যুর পরও কি রাজনৈতিক পরিচয়ই মানুষের শেষ পরিচয়?
রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের জানাজাকে কেন্দ্র করে বাধা ও হামলার অভিযোগ আমাদের সামনে এমন কিছু প্রশ্ন হাজির করেছে, যা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
প্রকাশিত তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, রোটনের মরদেহ নিয়ে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে জানাজা পড়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মরদেহ ওই এলাকায় প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং জানাজায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে গেছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। মসজিদের সামনে থেকে পুলিশ চারজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
জানাজায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাঁদের ওপর হামলা করেছেন। অন্যদিকে, মরদেহ নিয়ে আসা ব্যক্তিদের বক্তব্যে পুলিশি বাধার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।
এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগাম অপরাধী সাব্যস্ত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো অভিযোগ উপেক্ষা করাও গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়—কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আপত্তি থাকলে তার বিচার হবে আইনের মাধ্যমে, নাকি তার মরদেহ এবং জানাজাকেও রাজনৈতিক বিরোধের অংশ বানানো হবে?
ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ সংগঠন—এই পরিচয় সামনে রেখেও বলা প্রয়োজন, সংগঠনের রাজনৈতিক অবস্থান বা অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক থাকলেও প্রত্যেকটি ঘটনার বিচার আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত। কোনো অভিযোগের দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যেক সদস্য, স্বজন কিংবা জানাজায় অংশ নিতে আসা সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
জানাজা কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ নয়। এটি মৃত ব্যক্তির জন্য ধর্মীয় প্রার্থনা এবং স্বজন ও পরিচিতজনদের বিদায়ের একটি মানবিক উপলক্ষ। সেখানে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে বাধা, ভয়ভীতি কিংবা হামলার ঘটনা ঘটলে তা ব্যক্তি-অধিকারের পাশাপাশি সামাজিক সহনশীলতার প্রশ্নও তৈরি করে।
তাহলে কি আওয়ামী লীগের দেখানো পথেই হাঁটছে বিএনপি?
এই প্রশ্নটি আজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে রাজনৈতিক বিরোধ, সভা-সমাবেশ, মতপ্রকাশ এবং ধর্মীয় আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাধা, মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির বহু অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন মতের মানুষেরাও নানা সময়ে এসব অভিযোগ তুলেছেন।
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর পর তাঁর জানাজা ও গায়েবানা জানাজাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি, প্রশাসনিক ভূমিকা এবং বিভিন্ন স্থানে বাধা ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। এসব ঘটনার প্রতিটি ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল, কোথায় কী ধরনের বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং কারা দায়ী ছিলেন—তা নির্দিষ্ট তথ্য ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
একইভাবে, ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
এই ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে আজ রোটনের জানাজাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ নতুন করে একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন সামনে এনেছে—যে আচরণের বিরুদ্ধে একসময় প্রতিবাদ করা হয়েছে, ক্ষমতার পালাবদলের পর সেই আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তার প্রতিবাদ হবে না কেন?
বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের কথা বলে আসছে। এসব নীতি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। দলের নেতাকর্মীদের আচরণেও তার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।
কোনো দলের অতীতের অন্যায় অন্য কোনো দলকে একই কাজ করার বৈধতা দিতে পারে না। বরং যারা অতীতের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, তাদের দায়িত্ব হলো ভবিষ্যতে সেই অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো।
ক্ষমতার পরিবর্তন যদি মানুষের প্রতি আচরণের পরিবর্তন না ঘটায়, তবে সেই পরিবর্তনের সুফল সাধারণ মানুষ কতটা পাবে?
জানাজার অধিকার কি রাজনৈতিক পরিচয়ের কাছে জিম্মি?
মৃত্যু মানুষের জীবনের অনিবার্য পরিণতি। জীবিত অবস্থায় মানুষের রাজনৈতিক মত, আদর্শ, কর্মকাণ্ড ও ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত হতে পারে, বিচার হতে পারে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তিও হতে পারে।
কিন্তু মৃত্যুর পর একটি জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে তা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়।
আজ যদি একজন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতার জানাজায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, কাল অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার জানাজা নিয়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আজ যে পক্ষ ক্ষমতাবান, কাল সে পক্ষ ক্ষমতার বাইরে যেতে পারে। রাজনৈতিক পরিচয় বদলাতে পারে, কিন্তু মানুষের মৌলিক অধিকার ও আইনের নীতি বদলে যাওয়ার কথা নয়।
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার আইনসাপেক্ষে সবার জন্য প্রযোজ্য। কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে প্রশাসনের বিধিনিষেধ প্রয়োজন হলে তার যৌক্তিকতা, আইনগত ভিত্তি ও প্রয়োগের স্বচ্ছতা থাকা দরকার। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্বিচারে বাধা দেওয়া কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, অপরাধের তদন্ত করা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দায়িত্ব নয় নিজস্ব সিদ্ধান্তে কে জানাজায় অংশ নেবে, কে এলাকায় প্রবেশ করবে কিংবা কে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করবে, তা নির্ধারণ করা।
আমরা এমন নীতি ও আদর্শহীন রাজনৈতিক সংস্কৃতি চাই না
আমরা এমন রাজনীতি চাই না, যেখানে ক্ষমতায় থাকলে সবকিছু বৈধ আর ক্ষমতার বাইরে থাকলে সবকিছু অন্যায়। আমরা এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি চাই না, যেখানে নিজের দলের অপরাধকে ভুল বোঝাবুঝি বলে ব্যাখ্যা করা হয়, আর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার করা হয়।
আমরা এমন সমাজও চাই না, যেখানে মানুষের কান্নার চেয়ে দলের স্বার্থ বড়, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা জরুরি, আর মানবিকতার চেয়ে প্রতিহিংসার মূল্য বেশি।
আমাদের রাজনীতিতে মতভেদ থাকবে, আদর্শগত সংঘাত থাকবে, নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধ যেন মানুষের প্রতি ন্যূনতম সম্মানটুকুও কেড়ে না নেয়।
একটি গণতান্ত্রিক সমাজে প্রতিপক্ষ মানেই শত্রু নয়। ভিন্নমত মানেই অপরাধ নয়। কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা মানেই তার প্রত্যেক সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সত্য—এমন সিদ্ধান্তও গ্রহণযোগ্য নয়।
ন্যায়বিচারের মূল কথা হলো, অভিযোগের বিচার হবে প্রমাণের ভিত্তিতে; রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। অপরাধ করলে নিজের দলের লোকেরও জবাবদিহি করতে হবে। আর অপরাধের অভিযোগ না থাকলে শুধু পরিচয়ের কারণে কাউকে হয়রানির শিকার হতে হবে না।
এই ধ্বংসের খেলা থেকে আমরা মুক্তি চাই
এই মাটির গন্ধ আমাকে আন্দোলিত করে। এই মাটির মমতা আমাকে দেশপ্রেম শিখিয়েছে। এই দেশের মানুষের হাসি-কান্না, সংগ্রাম, স্বপ্ন আর বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক। অথচ কখনো কখনো মনে হয়, যে মাটি আমাকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে, সেই মাটিতেই রাজনৈতিক বিভাজন মানুষকে পরস্পরের কাছে অপরিচিত করে তুলছে।
মৃত্যুর পরও যদি মানুষকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অপমানিত হতে হয়, জানাজার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, স্বজন ও পরিচিতদের শেষ বিদায় জানাতে বাধার অভিযোগ সামনে আসে, তবে আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের সংকট কতটা গভীর—তা ভেবে দেখা জরুরি।
আমরা এই অপবিত্র রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মানুষের বিপদে দলীয় পরিচয় নয়, মানবিকতাই প্রথম বিবেচ্য হবে।
কেউ বিপদে পড়লে তাকে টেনে তুলে তার পাশে দাঁড়াতে চাই। কারও ব্যথায় ব্যথিত হয়ে তার যন্ত্রণা ভাগ করে নিতে চাই। কারও রাজনৈতিক মতের সঙ্গে একমত না হলেও তার ন্যায্য অধিকার রক্ষায় কথা বলতে চাই। অন্যায়ের শিকার হলে প্রতিবাদ করতে চাই—সে নিজের দলের মানুষ হোক কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।
আমরা চাই, রাজনীতি মানুষের সেবা করার মাধ্যম হোক; প্রতিশোধ নেওয়ার অস্ত্র নয়। রাষ্ট্র হোক সবার নিরাপত্তার আশ্রয়; কোনো দলের একক সম্পত্তি নয়। আইন হোক সবার জন্য সমান; ক্ষমতাবানদের জন্য এক রকম, বিরোধীদের জন্য আরেক রকম নয়।
শেষ কথা
রোটনের জানাজাকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হোক। কারও বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পুলিশি ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক।
একই সঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক নিপীড়ন, জানাজা ও গায়েবানা জানাজায় বাধার অভিযোগ এবং বিরোধী মতের মানুষের অধিকার সংকুচিত করার ঘটনাগুলোও নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
আমরা চাই না, আওয়ামী লীগের আমলে যে আচরণের বিরুদ্ধে মানুষ প্রতিবাদ করেছে, ক্ষমতার পালাবদলের পর বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল সেই আচরণের পুনরাবৃত্তি করুক। আবার কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই কাউকে দায়ী করাও আমরা চাই না। আমাদের প্রত্যাশা—সত্য প্রতিষ্ঠিত হোক, অপরাধের বিচার হোক এবং মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকুক।
দেশ কারও একার নয়। এই মাটি কোনো দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। আর মানুষের মর্যাদা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের কাছে জিম্মি থাকতে পারে না।
ক্ষমতার পরিবর্তন তখনই অর্থবহ হবে, যখন মানুষের প্রতি আচরণে পরিবর্তন আসবে। রাজনীতিতে তখনই নতুন দিনের সূচনা হবে, যখন প্রতিহিংসার জায়গায় ন্যায়বিচার, বিভাজনের জায়গায় সহমর্মিতা এবং দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে।
আমরা সেই বাংলাদেশ চাই—যেখানে জীবিত মানুষের অধিকার যেমন সুরক্ষিত থাকবে, তেমনি মৃত্যুর পরও তার ধর্মীয় মর্যাদা ও স্বজনদের শোক পালনের অধিকারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার বানানো হবে না।
আমরা ক্ষমতার দম্ভ নয়, মানবিকতার জয় চাই। প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, ন্যায়বিচারের সংস্কৃতি চাই। বিভাজনের বাংলাদেশ নয়, সবার বাংলাদেশ চাই।