বরিশালের বাবুগঞ্জে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী ঐশী আক্তারকে (২৫) নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী সোহেল খানের (২৮) বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে মারা যান ঐশী। এ ঘটনায় সোহেল খানকে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে তাঁর ছোট ভাই তানভীর খানকেও।
সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঐশীর মৃত্যু হয়।
নিহত ঐশী আক্তার উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর সাধুকাঠী গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে। অভিযুক্ত সোহেল খান কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাদের খানের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের জেরে চার দিন আগে ঐশীর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন তাঁর স্বামী সোহেল। এ সময় তাঁকে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বামীর বাড়িতে অচেতন হয়ে পড়েন ঐশী। পরে তাঁকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে মনিরুল ইসলাম জানান, মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঐশীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।র্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে সোহেল খান ও তাঁর ছোট ভাই তানভীর খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। নিহতের চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।