মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে বরিশালের কীর্তনখোলা ও কালাবদর নদীতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় ১৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়। জব্দ করা ১০ কেজি ইলিশ মাছ বিতরণ করা হয়েছে স্থানীয় এতিমখানায়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বরিশাল সদর উপজেলার বিভিন্ন নদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানা। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
অভিযানে সহযোগিতা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন ও বরিশালের ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা। এ সময় নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ এবং মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে জেলেদের মা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান ইউএনও মোছা. ফরিদা সুলতানা। তিনি বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে এ সময়ে নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা সবার দায়িত্ব। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের সুরক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এ সময়ে নদ-নদীতে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার প্রতিরোধ এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রশাসনের পাশাপাশি জেলে ও স্থানীয় জনগণের সচেতনতা এবং সহযোগিতাও জরুরি।
⋮⋮⋮⋮⋮⋮⋮⋮