শিরোনাম
বিএমডিএর মেকানিক বরখাস্ত

মিটার রিচার্জের ভুয়া ভাউচারে প্রায় ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মিটার রিচার্জের ভুয়া ভাউচারে প্রায় ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) পবা জোনে সেচযন্ত্রের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ না করেই ভুয়া ভাউচার ও পেমেন্ট স্লিপ জমা দিয়ে প্রায় ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী মেকানিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোতাহার হোসেন নামের ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে পঞ্চগড় জোনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এসব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বিএমডিএ সূত্রে জানা গেছে, পবা জোনের আওতাধীন নওহাটা পৌরসভার সিন্দুরঝুসুম্বী মৌজার একটি গভীর নলকূপের প্রিপেইড মিটার নষ্ট হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসের বেশি সময় মিটারটির তথ্য সংগ্রহে কোনো চেকিং কার্ড ব্যবহার করা হয়নি।

এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই মোতাহার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ২৬ জুলাই তিনি জবাব দিলেও তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক হয়নি। পরে ২৭ জুলাই তাঁর বরাদ্দ করা সেচযন্ত্রের বরাদ্দ আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এরপর তাঁর দায়িত্বে থাকা গভীর নলকূপগুলোর প্রিপেইড মিটার রিচার্জের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিকাশ, রকেট ও জনতা ব্যাংকের ডিলার পয়েন্টের পেমেন্ট স্লিপ ও ভাউচার জমা দিয়ে মোট ২৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ১৮ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন মোতাহার হোসেন। এ বিষয়ে ২১ ও ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে কৈফিয়ত তলব করা হলেও তিনি জবাব দেননি বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষের আদেশে এসব কর্মকাণ্ডকে অসদাচরণ, কর্মস্থল ত্যাগ, অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতিসংশ্লিষ্ট অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চাকরিবিধি অনুযায়ী তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পঞ্চগড় জোন অফিসে নিয়মিত উপস্থিতি, পৃথক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর এবং কর্মস্থল ত্যাগের আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএমডিএর পবা জোনের সহকারী প্রকৌশলী জামিনুর রহমান বলেন, মোতাহার হোসেন অফিস থেকে টাকা নিয়ে সেচযন্ত্রের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করতেন। কিন্তু তদন্তে দুই অর্থবছরে মিটার রিচার্জ না করেই ভুয়া ভাউচার ও পেমেন্ট স্লিপ জমা দেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, ঘটনাটি প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী মেকানিক মোতাহার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর