শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ড, শিক্ষার্থীদের কোলাহল আর প্রজন্ম গড়ার ব্যস্ততায় কেটে গেছে জীবনের দীর্ঘ সময়। সেই কর্মময় অধ্যায় শেষে মহালছড়িতে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বিদায় জানানো হলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ৩০ শিক্ষক-শিক্ষিকাকে। একই অনুষ্ঠানে প্রয়াত দুই শিক্ষকের পরিবারকেও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী শিক্ষক ও তাঁদের সহকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ির মহালছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের উদ্যোগে এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মিসকাতুল তামান্না। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা জহির উদ্দিন, পানছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুভায়ন খীসা, মহালছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিপুল বিকাশ চাকমা, মহালছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দীপক সেন, সরকারি আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ধনমনি চাকমা এবং এপিবিএন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল আহমেদ।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অনুপম শীল। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এডিন চাকমা।
অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়াত দুই শিক্ষকের পরিবারের সদস্যদেরও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
বিদায়ী শিক্ষকরা তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের শাসন-স্নেহে মানুষ করা, বিদ্যালয়ের নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যে দায়িত্ব পালন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা স্মরণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁদের বিদায়ের মুহূর্তে অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠেন সহকর্মীরাও।
বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না; শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখার সাহস জোগানোর পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শেখান। দীর্ঘদিন মহালছড়ির প্রাথমিক শিক্ষায় দায়িত্ব পালন করা এসব শিক্ষকের অবদান অবসরের সঙ্গে শেষ হওয়ার নয়। তাঁদের হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থীই তাঁদের কর্মজীবনের বড় অর্জন।
তাঁরা আরও বলেন, অবসর কর্মজীবনের সমাপ্তি ঘটালেও একজন শিক্ষকের অবদান ও স্মৃতি সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং সমাজের মানুষের মাঝে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। আর প্রয়াত শিক্ষকরা শারীরিকভাবে না থাকলেও তাঁদের শিক্ষা, আদর্শ ও কর্মের স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে।
উল্লেখ্য, মহালছড়ি উপজেলায় গত পাঁচ বছরে অবসর নেওয়া ৩০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং মৃত্যুবরণ করা দুই শিক্ষকের পরিবারকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো এ ধরনের সম্মাননা ও বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হলো।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ছিল স্মৃতিচারণ, ভালোবাসা ও বিদায়ের আবেগ। দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ফিরে যান তাঁদের প্রিয় শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের আঙিনার স্মৃতিতে। কর্মজীবনের অধ্যায় শেষ হলেও মহালছড়ির প্রাথমিক শিক্ষায় তাঁদের রেখে যাওয়া অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।