নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি ও কোয়ার্টার অবৈধ দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ে সূত্রের দাবি, শহরে রেলওয়ের প্রায় ৮০০ একর জমির মধ্যে ৪৫০ একরই বর্তমানে অবৈধ দখলে রয়েছে। এসব জমিতে গড়ে উঠেছে পাঁচ হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি ও বহুতল ভবন। একই সঙ্গে রেলওয়ের ২ হাজার ৪৮০টি কোয়ার্টারের মধ্যে ১ হাজার ৩২৫টি বেদখল হয়েছে বলে দাবি সূত্রটির।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সৈয়দপুরে রেলভূমি দখল-সংক্রান্ত দুই হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব মামলা চললেও জমি ও স্থাপনা উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রেলওয়ে কারখানা সূত্রে জানা যায়, ১৮৭০ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের সময় সৈয়দপুরে বিশাল রেলওয়ে কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সময় রেলওয়ে প্রায় ৮০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। এর মধ্যে প্রায় ১১০ একর জমিতে কারখানা এবং দুই শতাধিক একর জমিতে বিভিন্ন রেলওয়ে ভবন ও কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। পৌর বাজারও রেলওয়ের প্রায় ২৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে।
সূত্রটির দাবি, ১৯৭১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রেলওয়ের জমি ও কোয়ার্টার দখল করে পরে তা অন্যদের কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করেছেন। দখল করা জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে মার্কেট, আবাসিক ভবন ও বহুতল স্থাপনা।
সৈয়দপুর শহরের খালাসী মহল্লা, গোলাহাট, ইসলামবাগ, রসুলপুর, মুন্সিপাড়া, নতুন বাবুপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, গার্ডপাড়া, অফিসার্স কলোনি ও আতিয়ার কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় রেলওয়ের কোয়ার্টার বেদখলের অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও পুরোনো কোয়ার্টার ভেঙে নতুন মার্কেট নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, রেলওয়ের জমি ও কোয়ার্টার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এসব দখল ও স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সরিফুল ইসলাম ২০২১ সালে সৈয়দপুর আইডব্লিউ অফিসে যোগ দেওয়ার পর তাঁর দায়িত্বকাল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কিছু বসবাসযোগ্য কোয়ার্টারকে ‘ড্যামেজ’ দেখিয়ে অর্থের বিনিময়ে বেদখলের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের বিভিন্ন ভবন ও আউটহাউস ভাড়ায় নিয়ে অনেকে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি তাঁদের।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সরিফুল ইসলাম। এ বিষয়ে তিনি অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রেলওয়ে কারখানা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোবায়েত হোসেন বলেন, সৈয়দপুর শহরে রেলওয়ের অন্তত ৪৫০ একর জমি অবৈধ দখলে চলে গেছে বলে তাঁদের জানা আছে। তাঁর অভিযোগ, জমি ও কোয়ার্টার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তা উৎকোচের বিনিময়ে দখলে সহায়তা করছেন।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ বলেন, শহরে রেলওয়ের জমিতে চার হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবন গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে বহুতল বাণিজ্যিক ভবনও রয়েছে।
তিনি বলেন, রেলওয়ের যেসব জমি ও কোয়ার্টার ভবিষ্যতে প্রয়োজন হবে না, সেগুলো নীতিমালা অনুযায়ী নিষ্পত্তি করে এবং প্রয়োজনীয় জমি ও কোয়ার্টার উদ্ধার করা গেলে রেলওয়ের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।