শিরোনাম

২০২৭ সালেই শুরু হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

২০২৭ সালেই শুরু হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

২০২৭ সালেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে। ২০২৭ সালেই এর কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সারের সংকট নিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দল কৃত্রিমভাবে সারসংকট তৈরি করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া সার ডিলাররাই এখনও দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি সরকারের সময়ে নতুন কোনো ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আগের ডিলারদের বাতিল না করে শূন্য পদে নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য দ্বিতীয় পরিপত্র জারি করা হয়েছে এবং তৃতীয় পরিপত্রের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ইউএনওর মাধ্যমে একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে কৃষকরা সহজে সার পান। কেউ যেন বেশি দামে সার বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নজরদারির আহ্বান জানান তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, নির্বাচনের আগে এ কর্মসূচি নিয়ে অনেকে সমালোচনা করলেও বর্তমানে বিভিন্ন উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করে ধাপে ধাপে তাদের কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

উত্তরাঞ্চলের পানিসংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দিন দিন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। একসময় অল্প গভীরতায় পানি পাওয়া গেলেও বর্তমানে অনেক এলাকায় ২০০ ফুট গভীরেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বরেন্দ্র অঞ্চলের কোথাও কোথাও ৬০০ থেকে ৭০০ ফুট গভীরেও পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের অভিন্ন নদীগুলোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল মরুকরণের ঝুঁকিতে পড়ছে। কুড়িগ্রামে ৫৪টি এবং পঞ্চগড়ে প্রায় ৫০টি নদী থাকলেও অনেক নদী এখন আর জীবন্ত নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার পানি নিশ্চিত করা হলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ডোমার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রেয়াজুল ইসলাম কালু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী, ডোমার থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর