শিরোনাম

‘চেয়ারম্যান হলে গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেব’—নোয়াখালীতে পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য

‘চেয়ারম্যান হলে গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেব’—নোয়াখালীতে পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য

‘চেয়ারম্যান হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেব’—এমন ব্যঙ্গাত্মক ও বিতর্কিত বক্তব্যসংবলিত পোস্টার ঘিরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টারগুলোতে ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. খোকনের নাম ও ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এসব পোস্টার কে বা কারা লাগিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কয়েক দিন ধরে সিরাজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দেয়ালে এসব পোস্টার দেখা যাচ্ছে। পোস্টারে নিজেকে ‘গাঁজার ডিলার (খোকন)’ উল্লেখ করে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে বিনামূল্যে গাঁজা-ইয়াবা বিতরণের কথা লেখা হয়েছে।

পোস্টারগুলোতে আরও লেখা রয়েছে—‘বেকারদের জন্য গাঁজা’, ‘বেকারদের জন্য গাঁজা ভাতা’, ‘মাদকসেবীদের জন্য বিশেষ কার্ড’, ‘স্কুল-কলেজের সামনে ফ্রি সাপ্লাই’, ‘থানা-পুলিশ আমার ভাই’, ‘উন্নয়ন হবে’ এবং ‘আগে চাঁদা হবে’—এমন বিভিন্ন স্লোগান।

তবে নিজের নাম ও ছবি ব্যবহার করে এসব পোস্টার লাগানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিরাজপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. খোকন। তিনি দাবি করেছেন, সামাজিকভাবে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এসব পোস্টার লাগিয়েছেন।

খোকন বলেন, “পাঁচ দিন আগে আমার ছেলেকে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাসেমের ছেলে চড় মারে। বিষয়টি নিয়ে আমি প্রতিবাদ করি এবং মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি। তা দেখে তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছি। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।”

তবে খোকনের এ অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতের সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে পোস্টারগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ পোস্টারটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ মাদকবিরোধী সচেতনতার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়দের কয়েকজনের মন্তব্যে পোস্টারটির ভাষা নিয়ে বিস্ময় ও সমালোচনা দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেলাল হোসেন অপেল নামের একজন লিখেছেন, ‘আর কী বলব।’ মো. রাজু নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘মাদক কতটা ভয়াবহ হলে এমন পোস্টার করা হয়।’ সজিব মাহমুদ নামের আরেকজনের মন্তব্য, ‘এটি প্রতিহিংসা থেকে হতে পারে।’

তবে পোস্টারগুলো কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কেন লাগিয়েছে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, “ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সত্যতা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর