শিরোনাম

আশ্বিনের প্রথম ভোরে কুয়াশার চাদরে ঢাকল নীলফামারী

আশ্বিনের প্রথম ভোরে কুয়াশার চাদরে ঢাকল নীলফামারী

শরতের নীল আকাশ আর সাদা মেঘের ভেলায় ভেসে বিদায়ের সুর বাজছে ঋতুরাজ শরতের। এরই মধ্যে ভাদ্র পেরিয়ে আজ মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়েছে আশ্বিন। আর আশ্বিনের প্রথম ভোরেই নীলফামারীতে দেখা মিলেছে ঋতুবদলের আগমনী বার্তা। ভোরের আলো ফোটার আগেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় শহর থেকে গ্রাম—সঙ্গে বাতাসে অনুভূত হয় হালকা শীতের পরশ।

সকাল ৬টার দিকে নীলফামারী শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠে দেখা যায়, চারপাশ হালকা কুয়াশায় আচ্ছন্ন। মাঠ-প্রান্তর, সড়ক ও গাছপালাতেও ছিল কুয়াশার আবরণ। জেলার বিভিন্ন এলাকাতেও ভোরে প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে।

নীল আকাশের ক্যানভাসে সাদা পেঁজা তুলোর মতো মেঘ, নদীর তীরে কাশফুলের শুভ্রতা আর ভোরের কুয়াশা—সব মিলিয়ে প্রকৃতিতে যেন শরতের বিদায় ও হেমন্তের আগমনের বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে কমেছে গরমের তীব্রতা; ভোরের বাতাসে যোগ হয়েছে স্বস্তিদায়ক শীতলতা।

বড় মাঠে প্রাতঃভ্রমণে আসা স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আজ আশ্বিনের প্রথম সকালে হাঁটতে বের হয়ে দেখি চারদিক কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে। সকাল ৬টায় নীলফামারীতে এমন কুয়াশা আর হালকা শীতের আমেজ সত্যিই মন জুড়িয়ে দেয়।”

আশ্বিন শুধু প্রকৃতির রূপবদলের মাস নয়, এ মাস ঘিরে রয়েছে উৎসব ও কৃষকের নানা প্রত্যাশাও। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাও এ মাসে অনুষ্ঠিত হয়। ফলে প্রকৃতির পরিবর্তনের পাশাপাশি উৎসবের আমেজও ছড়িয়ে পড়ে জনপদজুড়ে।

অন্যদিকে মাঠে বাড়ছে কৃষকের ব্যস্ততা। রোপা আমন ধানের ক্ষেতগুলো সবুজ থেকে ধীরে ধীরে সোনালি রূপ নিতে শুরু করেছে। ফসলের সম্ভাব্য ভালো ফলন ঘিরে কৃষকদের মুখে ফুটছে আশার হাসি।

নীলফামারী সদর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় শুরু হয়েছে আগাম আলু চাষের প্রস্তুতিও। কৃষকেরা জমিতে জৈবসার প্রয়োগ করে জমি প্রস্তুত করছেন। আগাম আলু আবাদ করে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ভালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি দ্বিগুণ লাভের স্বপ্ন দেখছেন অনেক চাষি।

প্রকৃতির ঋতুবদনের সঙ্গে কৃষকের মাঠেও এখন নতুন প্রত্যাশার গল্প। কুয়াশাভেজা আশ্বিনের প্রথম ভোর তাই নীলফামারীর মানুষের কাছে একদিকে যেমন শরতের বিদায়ের বার্তা, অন্যদিকে তেমনি নতুন ফসল, উৎসব ও হেমন্তের আগমনের অপেক্ষা।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর