শিরোনাম
সাতক্ষীরায় মনসা-বিশ্বকর্মা পূজা

অনুমতি না মেলায় হচ্ছে না গুড়পুকুর মেলা

অনুমতি না মেলায় হচ্ছে না গুড়পুকুর মেলা

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী মনসা পূজা ও বিশ্বকর্মা পূজা। শুক্রবার সকালে শহরের পলাশপোল এলাকার প্রাচীন মনসাতলায় পূজাকে ঘিরে ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের ভিড় দেখা যায়। তবে পূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবারও বসছে না ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা।

সকালে দেবীর চরণে অঞ্জলি প্রদান, ধূপ-দীপ প্রজ্বালন ও অর্ঘ্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু পূজাপ্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় দেখা যায়নি মেলার সেই চিরচেনা আয়োজন।

পৌরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার গুড়পুকুর মেলা আয়োজনের জন্য প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ বছর মেলা আয়োজনের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আসাদুজ্জামান বলেন, মেলার বিষয়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। তবে জেলা প্রশাসনের চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় মেলা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তাঁর দাবি, এ নিয়ে টানা তিন বছর ঐতিহাসিক গুড়পুকুর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

স্থানীয় সমাজকর্মী মধাব দত্ত বলেন, প্রায় তিন শত বছরের পুরোনো গুড়পুকুর মেলা সাতক্ষীরার লোকজ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় পূজা উপলক্ষে গুড়পুকুরপাড়ে কুটিরশিল্প, মৃৎশিল্প, কাঠের আসবাব, খেলনা ও নার্সারিসহ বিভিন্ন পণ্যের হাজারো দোকান বসত। মেলার বিস্তৃতি শহরের বিভিন্ন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ত।

স্থানীয়দের মতে, ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মেলা চলাকালে শহরের রকসি সিনেমা হল ও স্টেডিয়ামের সার্কাস প্যান্ডেলে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। এরপর নিরাপত্তাজনিত কারণে মেলার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১১ ও ২০২২ সালে সীমিত পরিসরে মেলা আয়োজনের চেষ্টা করা হলেও আগের সেই প্রাণচাঞ্চল্য আর ফিরে আসেনি বলে জানান স্থানীয়রা।

এবার মেলা না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রবীণদের মতে, গুড়পুকুর মেলা শুধু কেনাবেচার আয়োজন ছিল না; এটি ছিল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলা।

স্থানীয়দের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় শর্ত ও বিধিনিষেধ আরোপ করে হলেও ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলাটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এতে সাতক্ষীরার দীর্ঘদিনের লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ধারাও টিকে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর