শিরোনাম

সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত শতাধিক, আহত ১১৩

সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত শতাধিক, আহত ১১৩

সুদানের দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা শহরে একটি ব্যস্ত বাজারে ড্রোন হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১১৩ জন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ইমার্জেন্সি লয়ার্স।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা শহরের একটি বাজারে এ হামলা হয়। বাজারটিতে সাধারণ বিক্রেতা ও ক্রেতাদের পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাত ৮টার দিকে একটি ড্রোন বাজারে আঘাত হানে। এতে আরএসএফ সদস্যদের পাশাপাশি খাবার ও চা বিক্রি করা নারীসহ বহু বেসামরিক মানুষ হতাহত হন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিস্ফোরণটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী।

দারফুরের ত্রাণকর্মী মোবারক বেখেত বলেন, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন বেসামরিক মানুষ। তাঁরা প্রাণ, প্রিয়জন ও ঘরবাড়ি হারাচ্ছেন এবং নতুন করে বোমাবর্ষণের আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

অন্যদিকে, সুদানের সেনাবাহিনীর পক্ষে লড়াই করা স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সেসের মুখপাত্র মোহামেদ দিদান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, নিয়ালার পশ্চিমে দুমাইয়া ক্যাম্পে লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলায় ১৫০ জনের বেশি মিলিশিয়া সদস্য নিহত হয়েছেন।

তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক প্রাথমিকভাবে ২১ জন নিহত ও ৪০ জনের বেশি আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতা ও চলমান সামরিক অভিযানের কারণে ঘটনাস্থল থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহে বিলম্ব হচ্ছে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।

চিকিৎসা সহায়তাদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা মেডিসিন্স স্যান ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) জানায়, তাদের সহায়তাপুষ্ট একটি হাসপাতালে ৩৬টি মরদেহ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ২১ জন বেসামরিক পোশাক পরা ছিলেন। এ ছাড়া সেখানে ১৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এমএসএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, বাজার, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা যাবে না। সংঘাতের সব পক্ষকে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সুদানে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে ড্রোন হামলা। চলমান সংঘাত দেশটিতে খাদ্যসংকট আরও তীব্র করছে এবং ব্যাপক শরণার্থী সংকট সৃষ্টি করেছে।

 

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর