শিরোনাম

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, ৬ লেনের দাবি

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, ৬ লেনের দাবি

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার টাউন নওয়াপাড়া থেকে ফলতিতা বটতলা পর্যন্ত এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুতগতির যানবাহন, বেপরোয়া ওভারটেকিং, চালকদের অসতর্কতা এবং মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে পণ্য ওঠানো-নামানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি নিরাপদ সড়কব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে কাঠ বোঝাই, মাছ ওঠানো-নামানো এবং ইট-বালু পরিবহনের কাজ চলে। কোথাও কোথাও বিদ্যুতের খুঁটিও ফেলে রাখা হয়। এতে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয় এবং অন্য যানবাহনকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।

ফকিরহাট উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার অভিযান ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিলেও এসব কার্যক্রমের স্থায়ী সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের ভাষ্য, সড়কের পাশে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় যান চলাচলে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। প্রতিটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবার; অনেক ক্ষেত্রে অকালে ঝরে যাচ্ছে প্রাণ।

স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রতি মাসে গড়ে পাঁচ থেকে সাতজন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তবে এ পরিসংখ্যানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ

ঢাকা থেকে ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট হয়ে খুলনায় পৌঁছানোর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ এই মহাসড়ক। খুলনা বিভাগ, মোংলা বন্দর এবং আশপাশের জেলাগুলোর যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সড়কটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কটির নিরাপত্তা ও ধারণক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয়দের মতে, বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এবং সড়ক পারাপারের সময় পথচারীদের হতাহতের ঘটনা এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁদের দাবি, মহাসড়কটি দ্রুত ছয় লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি জনবহুল মোড় ও হাটবাজারে আন্ডারপাস বা ওভারপাস নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর আরও দাবি, শুধু সড়কের লেন বাড়ালেই দুর্ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হবে না। ধীরগতির ও দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য পৃথক চলাচলব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সার্ভিস লেন এবং নিরাপদ পারাপারের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

‘প্রতিনিয়ত ঝরছে তাজা প্রাণ’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মোফাজ্জেল হোসেন মনা বলেন, “আমরা শুনেছি সড়কটির কাজ শুরু হওয়ার কথা, কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ।”

তাঁর মতো স্থানীয় অনেকেরই প্রত্যাশা, সড়কটির উন্নয়নকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবৈধ দখল ও পণ্য ওঠানো-নামানো বন্ধে উদ্যোগ

এ বিষয়ে ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ জামান বলেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে কাঠ ব্যবসায়ী, ইট-বালু ব্যবসায়ী, মৎস্য আড়তদার এবং বিদ্যুৎ বিভাগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়কের পাশের অবৈধ দখল ও কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, যানবাহনের বাড়তি চাপ মোকাবিলায় মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

নিরাপদ সড়কের অপেক্ষায় এলাকাবাসী

সম্প্রতি নওয়াপাড়া থেকে ফলতিতা বটতলা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে চলাচল করছে দূরপাল্লার বাস, ভারী ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার ও মোড় এলাকায়ও অনেক যানবাহন যথেষ্ট গতি কমায় না। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সার্ভিস লেন ও নিরাপদ পারাপারের অভাব পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, কৃষিপণ্য পরিবহন ও মোংলা বন্দরের কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, ছয় লেনে উন্নীতকরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি অবৈধ দখল উচ্ছেদ, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর। তাঁদের কাছে মহাসড়কটির উন্নয়ন কেবল যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন নয়; বরং দুর্ঘটনা কমিয়ে মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করারও দাবি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর