প্রচলিত ধানের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী জাতের কালো ধান বা ব্ল্যাক রাইস চাষ করে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন নীলফামারী সদর উপজেলার কৃষক দেলোয়ার হোসেন। জেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নে মাত্র ৪০ শতক জমিতে এ ধানের আবাদ করেছেন তিনি। ফলন তুলনামূলক কম হলেও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ ফসল থেকে লাভের আশা করছেন এ কৃষক।
সাধারণ ধানের সোনালি শিষের ভিড়ে কালো ধানের ব্যতিক্রমী রূপ নজর কাড়ছে স্থানীয়দের। পুষ্টিগুণ ও বাজারমূল্যের কারণে ব্ল্যাক রাইস চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যেও।
কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, ২০২২ সাল থেকে তিনি কালো ধান চাষ করছেন। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১২ থেকে ১৩ মণ ধান উৎপাদিত হয়। প্রতি মণ ধান ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। প্রচলিত জাতের তুলনায় ফলন কিছুটা কম হলেও ভালো দাম পাওয়ায় এ ধান চাষে লাভের সম্ভাবনা দেখছেন।
তিনি বলেন, কালো ধানের বাইরের রং কালো এবং ধান ভাঙানোর পর চালও কালো রঙের হয়। এ চালের ভাত খেতেও বেশ সুস্বাদু। কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ পেলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে কালো ধান চাষ করতে চান তিনি।
নীলফামারী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ব্ল্যাক রাইসের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। সাধারণ সাদা চালের তুলনায় কালো চালে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খাদ্যআঁশ, আয়রন ও প্রোটিনের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। সদর উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া ধান চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে কালো ধানের আবাদে সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেছে। এ ধানের চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন, আধুনিক চাষপদ্ধতি, জৈব সারের ব্যবহার ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। কালো ধানের মতো সম্ভাবনাময় ফসলের আবাদ সম্প্রসারিত হলে কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পুষ্টিকর খাদ্যের প্রাপ্যতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কালো ধান চাষে প্রচলিত ধান উৎপাদন পদ্ধতিই অনুসরণ করা যায়। পুষ্টিগুণের কারণে অনেক কৃষক শখের বশেও এ ধান চাষ করছেন। তবে নতুন কোনো জাতের ধান আবাদ সম্প্রসারণের আগে ফলন, উৎপাদন খরচ, রোগবালাইয়ের ঝুঁকি, স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা এবং বাজারদর বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। এসব দিক অনুকূলে থাকলে কালো ধান কৃষকদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সচেতন কৃষকদের মতে, প্রচলিত ধানের পাশাপাশি বিকল্প ও উচ্চমূল্যের ফসল চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। তবে কালো ধানের আবাদ টেকসইভাবে সম্প্রসারণ করতে হলে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, মানসম্মত বীজের প্রাপ্যতা, উৎপাদন ব্যয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।