মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ৫ নভেম্বর এ প্রকল্পের উদ্বোধন ও নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে বন্দরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব তথ্য জানান। চেয়ারম্যান বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মোংলা বন্দরের গুরুত্ব বাড়বে।
তিনি জানান, ২০২১ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ৪৭৫ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ৩ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় দুটি আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড ও কনটেইনার ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বেড়ে ৪ লাখ টিইইউতে দাঁড়াবে। এতে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, আধুনিক অবকাঠামো ও উন্নত কনটেইনার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সট: রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, চেয়ারম্যান, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।