দেশগঠনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ভূমিকা দৃষ্টান্তমূলক বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ।
তিনি বলেছেন, সংগঠনের কাজ না করে শুধু পদ-পদবি নিয়ে যারা ব্যস্ত, তাঁরা ‘মুই কী হনুরে’ মনোভাব নিয়ে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। সংগঠনের কাজে সক্রিয় না থাকলে যুবদল কিংবা তারেক রহমানের বিএনপিতে তাঁদের জায়গা হবে না।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দেশের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দেশ গঠনে যুবদলের ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সংগঠনকে গতিশীল করতে নেতাকর্মীদের যুবসমাজের কাছে যেতে হবে। প্রয়োজনে ঘরে ঘরে গিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান পৌঁছে দিতে হবে।
বর্তমান বিরোধী দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব প্রচারের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে যুবদলকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির জনসমর্থন নিয়ে নানা ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ ভোট দিয়েছেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের তুলনায় বেশি ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। গুজব ও মব সৃষ্টির বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব যুবদলকে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংগঠনিক দুর্বলতার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণে বোদা পৌরসভাসহ তিনটি ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি বাতিল করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের আট মাসের কর্মকাণ্ড মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম দলীয় বিবেচনায় নয়, বরং দল-মত নির্বিশেষে প্রাপ্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। সব ধর্ম ও মতের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আধুনিক বাংলাদেশ গড়াই বিএনপির নেতাকর্মীদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বোদা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এলাহি কুদরত সাগরের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব সোহেল রানার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বাবুসহ স্থানীয় নেতারা।
এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ মিনার চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময়সহ পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।