জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক তরুণী। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং প্রেমিককে প্রতি মাসে টাকা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে গেলেও এখন তাঁকে এড়িয়ে চলছেন প্রেমিক আলী হোসেন। বাধ্য হয়ে বিয়ের দাবিতে তাঁর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন ওই তরুণী।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে মেলান্দহ উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের রূপসীহাঁটা গ্রামের সুরুজ্জামানের ছেলে আলী হোসেনের বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি।
ওই তরুণীর দাবি, আলী হোসেনের সঙ্গে তাঁর পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক। এ সময়ে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। তিনি ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। সেখান থেকে প্রতি মাসে আলী হোসেনকে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা করে দিতেন বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ঢাকা থেকে মেলান্দহে আসার পর আলী হোসেনের পরিচিত এক ব্যক্তির বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থান করেন তাঁরা। সেখানে তাঁদের মধ্যে শারীরিক
সম্পর্ক হয় বলেও জানা গেছে। পরে রোববার সকালে দুজন মেলান্দহে এলে আলী হোসেন তাঁর মা অসুস্থ বলে সেখান থেকে চলে যান।
তরুণীর অভিযোগ, পরে কৌশলে তাঁকে মেলান্দহ বাজারে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আলী হোসেনের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে চলে যান। এরপর আলী হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে কোনো উপায় না দেখে সোমবার দুপুর থেকে বিয়ের দাবিতে তাঁর বাড়িতে অবস্থান নেন তিনি।
ওই তরুণী বলেন, “আমার মান-সম্মান সব শেষ হয়ে গেছে। আমি আলী হোসেনকে চাই, তাঁকে ছাড়া আমি যাব না। আমি তাঁকে প্রতি মাসে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছি। এখন আমি তাঁকে বিয়ে করতে চাই।”
নূর ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, দুপুর থেকে ওই তরুণী বিয়ের দাবিতে অবস্থান করছেন। তাঁর অভিযোগগুলো সত্য হলে ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টির দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।
এদিকে তরুণীর অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত আলী হোসেনের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আলী হোসেন কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, কেউ আমাদের কিছু জানায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।