শিরোনাম

ভারী বৃষ্টিতে আমনে স্বস্তি, আগাম আলু-সবজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় নীলফামারীর কৃষক

ভারী বৃষ্টিতে আমনে স্বস্তি, আগাম আলু-সবজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় নীলফামারীর কৃষক
ছবি:প্রতিনিধি

আশ্বিনের মাঝামাঝি এসে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা মেলায় নীলফামারীতে আমন চাষিদের মুখে স্বস্তি ফিরেছে। কয়েক দিনের খরার পর বৃহস্পতিবারের ভারী বৃষ্টি আমন ধানের ক্ষেতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। তবে একই বৃষ্টি দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে আগাম আলু ও শীতকালীন সবজি চাষিদের। বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে এসব ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

সরেজমিনে জানা গেছে, কয়েক দিনের অনাবৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকার আমন ধানের জমিতে পানির সংকট দেখা দিয়েছিল। এতে ধানের বৃদ্ধি ও ফলন নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি আমন চাষিদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসে।

তবে আমন ক্ষেতে যখন স্বস্তি, তখন বিপাকে পড়েছেন আগাম আলু ও সবজি চাষিরা। কৃষকদের আশঙ্কা, অসময়ের এ বৃষ্টি একটানা চলতে থাকলে সদ্য রোপণ করা আগাম আলুর বীজ পচে যেতে পারে। একই সঙ্গে জমিতে পানি জমে শীতকালীন বিভিন্ন সবজিরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়াবিদ লোকমান হাকিম জানান, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত দ্রুত কমে যেতে পারে, আবার একটানা তিন থেকে চার দিন স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে নীলফামারীতে বৃষ্টি শুরু হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মন্ডল বলেন, আশ্বিনের এ বৃষ্টি আমন ধানের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে আগাম আলু ও শাকসবজির ওপর বৃষ্টির কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১৩ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২৫ হেক্টর বেশি জমিতে আমন আবাদ হয়েছে।

জেলার প্রবীণ আলুচাষি এইচএম আনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘এবার ১৬ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণ করেছি। বৃষ্টি অল্প সময়ের মধ্যে থেমে গেলে আলুক্ষেতে তেমন ক্ষতি হবে না। কিন্তু বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে বীজ আলু পচে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

এদিকে আমন ক্ষেতে বৃষ্টির পানিতে স্বস্তি ফিরলেও আগাম আলু ও সবজি চাষিরা এখন দ্রুত আকাশ পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের আশা, বৃষ্টি থেমে রোদ উঠলে জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে যাবে এবং ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর