সড়ক সম্প্রসারণের কারণে ভেঙে ফেলার আশঙ্কায় থাকা মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার পূর্ব কুষ্টিয়া জামে মসজিদের পুনর্নির্মাণের জন্য বিকল্প জমি চেয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিরা। তবে তাঁদের দাবি করা সরকারি অর্পিত সম্পত্তির ২২ শতাংশ জমি কৃষকদলের পাঁচ নেতার নামে লিজ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বরাদ্দ বাতিল করে জমিটি মসজিদের নামে লিজ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের পূর্ব কুষ্টিয়া চৌরাস্তা মোড়ে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে পূর্ব কুষ্টিয়া জামে মসজিদের মূল ভবন ভেঙে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে। এ অবস্থায় মসজিদটি পুনর্নির্মাণের জন্য বিকল্প জায়গা প্রয়োজন। এ জন্য চৌরাস্তা মোড়ের সরকারি অর্পিত সম্পত্তির ২২ শতাংশ জমি মসজিদের নামে বরাদ্দ চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা।
কিন্তু সম্প্রতি ওই জমি পাঁচ ব্যক্তির নামে লিজ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, মসজিদের অস্তিত্ব রক্ষায় বিকল্প জায়গার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় না নিয়েই জমিটি অন্যদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মো. শুকুর আলী। বক্তব্য দেন খোরশেদ আলম, মিজানুর রহমান, ব্যবসায়ী সেলিম মাহমুদ, মঞ্জুর আলম ও বালিয়াটি ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবু।
বক্তারা বলেন, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব যখন সংকটের মুখে, তখন বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করা জরুরি। তাঁরা পাঁচ ব্যক্তির নামে দেওয়া লিজ বাতিল করে পুরো ২২ শতাংশ জমি পূর্ব কুষ্টিয়া জামে মসজিদের নামে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
‘নিয়ম মেনেই লিজ পেয়েছি’
জমির লিজগ্রহীতা ও বালিয়াটি ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি মো. রেজাউল করিম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি সব নিয়মকানুন মেনেই তাঁরা জমিটি লিজ পেয়েছেন। একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য মসজিদকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
যা বলছে প্রশাসন
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, জমিটি লিজ পাওয়ার জন্য আবেদনকারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। পরে আবেদনটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে এলে সরেজমিনে তদন্ত করে সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।