পঞ্চগড়ের বোদা পৌর শহরের ঝিনুকনগর এলাকায় আদালতে বিচারাধীন একটি জমি নিয়ে বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে হয়রানি ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবার। শুক্রবার দুপুরে ঝিনুকনগর এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মনজুরুল হক। এ সময় তাঁরা অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গত ৩ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে মানববন্ধন করা হয়েছে। সেখানে জমির মালিকানা নিয়ে মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৬১ সালে প্রয়াত আবু নুর মোহাম্মদ আব্দুল গফুর ২৪৯ শতক জমি কিনে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের বাড়ির পাশেই অবস্থিত বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। পরিবারের দাবি, ২০২৫ সালে বিদ্যালয়ের একটি নোটিশের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, এসএ রেকর্ডের নকশায় তাঁদের কেনা জমির ৩৫ শতক বিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।
পরিবারটি জানায়, বিষয়টি জানার পর তাঁরা নকশা সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা করেন। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট জমিতে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়। তবে আদালত এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেননি বলে দাবি তাঁদের। এরপরও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রুবেল নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে ব্যবহার করে তাঁদের হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ৬৬ বছর ধরে আমার বাবার কেনা জমিতে বসবাস করছি। জমি কেনার পর থেকেই বিদ্যালয় তাদের জায়গায় এবং আমরা আমাদের জায়গায় ঘরবাড়ি করে আসছি। ২০২৫ সালে জানতে পারি, এসএ রেকর্ডের নকশায় আমাদের ৩৫ শতক জমি বিদ্যালয়ের নামে দেখানো হয়েছে। এরপরই আমরা তা সংশোধনের আবেদন করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে অ্যাডভোকেট কমিশন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বিষয়টি এখন বিচারাধীন। এর মধ্যেই অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। আমরা এসব বন্ধ করে আদালতের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ১০টি পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হয়রানি বন্ধ এবং জমির বিরোধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।