পঞ্চগড় সদর উপজেলায় রাতের আঁধারে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে ১১টি বৈদ্যুতিক ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় চোরেরা বিদ্যালয়ের একটি সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরে রাখা কিছু টাকাও নিয়ে গেছে।
শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রবিবার সকালে বিদ্যালয়ে এসে অফিস কক্ষ এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান শিক্ষকরা। পরে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ঘুরে ১১টি ফ্যান খোয়া যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন। চোরেরা বিদ্যালয়ের একটি টেবিল ব্যবহার করায় তাতে জুতার ছাপও পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি স্ক্রু ড্রাইভার ফেলে যায় তারা।
তবে বিদ্যালয়ের কাঠের আলমারিতে থাকা ল্যাপটপ ও একটি প্রজেক্টরের সরঞ্জাম অক্ষত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মূল ফটকের তালা অক্ষত রেখে বিদ্যালয়ের বারান্দার গ্রিল দিয়ে দোতলায় উঠে চোরেরা ভবনে প্রবেশ করে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে গিয়ে ফ্যানের সুইচ দিলেও ফ্যান চালু হচ্ছিল না। পরে ওপরে তাকিয়ে তারা ফ্যান নেই দেখতে পায়। তীব্র গরমে ফ্যান ছাড়া ক্লাস করতে তাদের ভোগান্তি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীর বাবা রমেন চন্দ্র রায় বলেন, সকালে ছেলেকে বিদ্যালয়ে দিতে এসে ১১টি ফ্যান চুরির কথা শুনেছেন। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তিনি চুরির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশীদ বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে বিদ্যালয়ে এসে তালা খুলে অফিসকক্ষ এলোমেলো দেখতে পান। টেবিলে জুতার ছাপও ছিল। পরে শ্রেণিকক্ষগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, চারটি ফ্যান এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কক্ষ থেকে আরও সাতটি ফ্যান নেই। একটি সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরে রাখা কিছু টাকাও চুরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ছুটির পর শিক্ষকরা বিদ্যালয় থেকে চলে যান। স্থানীয়দের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন, কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যার পর বিদ্যালয় এলাকায় কিছু লোকজন আড্ডা দিচ্ছে এবং মাদক সেবন করছে। তাদের সঙ্গে চুরির ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তারা জানেন না। এ ঘটনায় এখনো থানায় অভিযোগ করা হয়নি; বিষয়টি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।