ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভাগীয় মামলা চলমান। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়মিত মনিটরিংয়ে ধরা পড়ার পর দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠানো এক দাপ্তরিক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আগে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণক সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন) মোহাঃ তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, অধিদপ্তরের নিয়মিত শিক্ষক উপস্থিতি মনিটরিং কার্যক্রমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষকের অননুমোদিত অনুপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে।
চিঠি অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন বালিয়াডাঙ্গীর দক্ষিণ ভান্ডারদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তামান্না তাসনিম ট্রেসি। তিনি ২০২৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে।
একই উপজেলার বাদমিহিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ শেফালী খাতুন ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট থেকে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে।
বালিয়াডাঙ্গীর চাকদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছাঃ সেলিনা খাতুনও বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া রাণীশংকৈলের পারকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ঠাকুর দাস ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
চিঠিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চারটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও আগে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছ থেকে পৃথক লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণক গ্রহণ; গৃহীত ব্যবস্থা ও প্রাপ্ত ব্যাখ্যার সমন্বিত প্রতিবেদন সাত কার্যদিবসের মধ্যে পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন)-এর কাছে পাঠানো এবং দাপ্তরিক ই-মেইলে তা প্রেরণ নিশ্চিত করা।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অননুমোদিত অনুপস্থিতি রোধে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও ক্লাস্টার পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে জারি করা চিঠির অনুলিপি রংপুর বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার উপপরিচালক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় কার্যার্থে পাঠানো হয়েছে।