শিরোনাম

নীলফামারীতে শাপলার ‘ঢ্যাঁপ’ সংগ্রহের ধুম, বাড়তি আয়ের উৎস গ্রামবাসীর

নীলফামারীতে শাপলার ‘ঢ্যাঁপ’ সংগ্রহের ধুম, বাড়তি আয়ের উৎস গ্রামবাসীর

বর্ষা শেষে হেমন্তের আগমনে নীলফামারীর গ্রামাঞ্চলের খাল-বিল, ডোবা ও নিচু জলাশয়ে শুরু হয়েছে শাপলার ফল ‘ঢ্যাঁপ’ সংগ্রহের ধুম। জলাশয়ের পানি কমতে শুরু করায় সহজেই সংগ্রহ করা যাচ্ছে মৌসুমি এই ফল। শিশুদের কাছে সুস্বাদু খাবার হিসেবে পরিচিত ঢ্যাঁপ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন অনেকে।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার দোলাপাড়া গ্রামের কৃষিজীবী আসেদুল ইসলামের বয়স ৫০ বছর। সারাদিন মাঠে কাজের পরও সময় বের করে তিনি নেমে পড়েন জলাশয়ে। হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়ে শাপলার ফল সংগ্রহ করেন থোকায় থোকায়।

আসেদুল ইসলাম জানান, সারাদিনের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় ঢ্যাঁপ নিয়ে গেলে ঘরের শিশুদের মুখে হাসি ফোটে। পরিবারের আনন্দের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে এই ফল বিক্রি করে কিছু বাড়তি আয়ও হচ্ছে তাঁর মতো অনেকের।

শাপলা ফুল ঝরে যাওয়ার পর গাছের ডাঁটার মাথায় তৈরি হয় গোলাকার বীজাধার, যা স্থানীয়ভাবে ‘ঢ্যাঁপ’ নামে পরিচিত। এর বাইরের অংশ ছাড়ালে ভেতরে পাওয়া যায় সারিবদ্ধ ছোট ছোট বীজ। মৌসুমি এই ফল কাঁচা বা সেদ্ধ করে খাওয়া হয়। আবার ঢ্যাঁপ শুকিয়ে বীজ বের করে তৈরি করা হয় ‘ঢ্যাঁপের ধান’। সেই বীজ গরম বালিতে ভেজে বানানো হয় ঢ্যাঁপের খই। খেজুরের গুড় মিশিয়ে তৈরি করা হয় নাড়ু ও মোয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী খাবার।

গ্রামবাংলার খাদ্যসংস্কৃতিতে ঢ্যাঁপের রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিচিতি। মৌসুমে জলাশয় থেকে সংগ্রহ করা এই ফল একদিকে যেমন স্থানীয় মানুষের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নেয়, অন্যদিকে বিক্রির মাধ্যমে কিছু মানুষের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে।

হেমন্তের এই সময়ে নীলফামারীর বিভিন্ন গ্রামের জলাশয়ে ঢ্যাঁপ সংগ্রহের চিরচেনা দৃশ্য গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেয়।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর