বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারতের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেছেন, দেশের প্রকৃত স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ অতীতের গুম-খুনের ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের পাঁচমাথা মোড়ে ‘তেঁতুলিয়া টু টেকনাফ মার্চ ফর ইনসাফ’ পদযাত্রার অংশ হিসেবে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ভোট চাওয়া নয়, বরং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের মাটিতে ইনসাফ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করছেন। তাঁর দাবি, ১৯৪৭ সাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে স্বাধীনতার অভিজ্ঞতা অর্জন করলেও ২০২৪ সালের আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন ও রক্ত ঝরিয়েছেন, তাঁদের জন্য এখনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি।
শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক বলেন, ওসমান হাদি দেশের মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলতেন। জাবেরের অভিযোগ, দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করাকে নিজেদের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে জাবের বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন শুধু শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা কিংবা আওয়ামী লীগকে সরিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য হয়নি। তাঁর ভাষায়, এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ যদি স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে না পারে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দিতে হয়, উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলতে থাকে এবং মানুষ গুম-খুনের শিকার হয়, তাহলে প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে বলা যায় না। এমন পরিস্থিতিতে দেশে ‘আরেকটি হাদি বিপ্লব’ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত ১৭ বছরে দেশে সংঘটিত গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক।
কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই আন্দোলন, পিলখানা ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা।
সৈয়দপুরে কর্মসূচি চলাকালে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নিজেদের দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করেন।