শিরোনাম
লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর

শীতের আগেই আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত জামালপুরের কৃষক

শীতের আগেই আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত জামালপুরের কৃষক
ছবি প্রতিনিধি

 

শীতের আমেজ পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগেই আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন জামালপুরের কৃষকেরা। জেলার সাতটি উপজেলায় জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, চারা রোপণ ও পরিচর্যার কাজে দিন কাটছে তাঁদের। মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজি তুলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় আগেভাগেই চাষাবাদে নেমেছেন কৃষকেরা।

জামালপুর সদর, সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম সবজি আবাদ ঘিরে কৃষকদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে। কোথাও জমিতে সবজির চারা রোপণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও বীজতলায় তৈরি হচ্ছে নতুন চারা। নিজস্ব জমির পাশাপাশি অন্যের জমি বর্গা নিয়েও সবজি চাষ করছেন অনেকে।

কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজি তুলতে পারলে সাধারণত ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে এবারও আগাম উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন তাঁরা। লাউ, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন ও মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের প্রস্তুতি চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে ভালো ফলনের আশা করছেন তাঁরা। উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জেলার বাইরের বাজারেও সরবরাহ করতে চান কৃষকেরা।

তবে আগাম সবজি চাষে সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে। অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, তাপমাত্রার ওঠানামা এবং পোকামাকড়ের আক্রমণে ফসলের ক্ষতি হতে পারে। এ ছাড়া বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে গেলে উৎপাদন খরচও বাড়বে। অন্যদিকে, বাজারে একসঙ্গে বেশি সবজি উঠলে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ভালো ফলনের পাশাপাশি উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকেরা।

কৃষকদের মতে, উৎপাদন খরচ কমাতে মানসম্মত বীজ ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ, সময়মতো সেচ এবং রোগবালাই দমনে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করা জরুরি। পাশাপাশি সবজি সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে কৃষকেরা আরও লাভবান হবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জামালপুর জেলায় ১৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে টমেটো, বেগুন, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, করলা, ধুন্দুল, ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ শুরু হয়েছে।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ বলেন, কৃষকেরা মাঠে সবজি আবাদ এবং বীজতলায় চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

জেলায় সারের কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ রয়েছে এবং রবি মৌসুমের জন্যও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ী সার পাওয়া গেলে তা কৃষকদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, কৃষকেরা নিজ নিজ এলাকার সার ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সার সংগ্রহ করতে পারবেন। কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর