শেষ আশ্বিনে হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজেছে উত্তরের জনপদ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রংপুরসহ আশপাশের জেলার আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত। প্রায় এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে নগরজীবনে কিছুটা ছন্দপতন ঘটলেও দীর্ঘদিনের ভ্যাপসা গরম থেকে স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ মানুষ।
বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। অনেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভিজে ভিজেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
তবে বৃষ্টিতে স্বস্তির পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ। রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে আগাম আলু, শাকসবজি ও রবি মৌসুমের বিভিন্ন ফসলের আবাদ শুরু হয়েছে। এ সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হলে সদ্য রোপণ করা বীজ ও চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নিচু জমিতে পানি জমে গেলে আলু ও সবজির গোড়ায় পচন ধরতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষকদের ভাষ্য, রবি মৌসুমের শুরুতেই অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে আগাম আলু ও সবজির উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে অসময়ের এই বৃষ্টি একদিকে যেমন জনজীবনে স্বস্তি এনেছে, অন্যদিকে কৃষকদের মধ্যে তৈরি করেছে ফসল নিয়ে শঙ্কা।
রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর প্রভাবে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বজ্রসহ ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।