শিরোনাম

সৈয়দপুরে ২৫ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়নকাজে ধীরগতি, বাড়ছে ভোগান্তি

সৈয়দপুরে ২৫ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়নকাজে ধীরগতি, বাড়ছে ভোগান্তি

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার দুটি প্রধান সড়কের উন্নয়নকাজে ধীরগতি ও তদারকির অভাবের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক সম্প্রসারণ, ঢালাই ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলায় কোথাও পথচারীদের চলাচলের পথ বন্ধ, কোথাও আবার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে যানজটের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তবে পৌরসভার প্রকৌশলী জানিয়েছেন, কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করতে ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের তামান্না মোড় থেকে ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত শেরেবাংলা সড়ক এবং তুলশীরাম সড়কের বিচালীহাটি মোড় থেকে বসুনিয়া মোড় পর্যন্ত শহীদ জহুরুল হক সড়কের উন্নয়নকাজ চলছে। সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল প্রজেক্ট’ (আরইউডিপি)-এর আওতায় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি সড়কের প্রথম ৬০০ মিটার আরসিসি ঢালাই এবং পরবর্তী ২ হাজার ৯০০ মিটার অংশে কার্পেটিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ফুটপাত ও সড়কবাতি নির্মাণের কাজও অন্তর্ভুক্ত। ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। ‘এমএ-কেই-এসবি-জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের দায়িত্ব পেলেও বাস্তবে নির্মাণকাজ করছে তাদের মনোনীত রংপুরের প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স শাম্মি বিল্ডার্স’।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর কাজ শুরু হয়। এক বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। শেরেবাংলা সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। অন্যদিকে, শহীদ জহুরুল হক সড়কে গত সপ্তাহে ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। তবে কোনো সড়কেই এখনো কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হয়নি।

শেরেবাংলা সড়ক এলাকার ব্যবসায়ী মো. আরমান বলেন, প্রতিদিন শহীদ জহুরুল হক সড়ক দিয়ে তাঁকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। সড়কের কোথাও অল্প অংশে, আবার কোথাও অর্ধেক অংশে ঢালাই করে বাকি কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। এতে যান চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, যথাযথ তদারকি না থাকায় কাজের এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমানের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া আরসিসি ঢালাইয়ের পর নিয়ম অনুযায়ী পানি দিয়ে কিউরিং করা হচ্ছে না। বিষয়টি পৌর প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মেসার্স শাম্মি বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী শামীম সাইদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে তদন্ত করে সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম বা গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, প্রকৌশলী আইয়ুব আলী জানিয়েছেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে সংস্কারকাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর