শিরোনাম

বিএম কলেজছাত্রী ঝুমুরের মৃত্যু, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের

বিএম কলেজছাত্রী ঝুমুরের মৃত্যু, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় প্রবাসী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ‘মানসিক নির্যাতনে’ ঝুমুর খানম সেতু নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় তাকে বিষপান করে মারা যেতে বলা হয়। এরপর বিষপান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নিহত ঝুমুর খানম সেতু উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে। তিনি বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলেন। সামাজিকভাবে গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী গ্রামের মৃত হারুন কাজীর ছেলে শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে ঝুমুরের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত ৯টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ বাবার বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। তাদের আহাজারিতে উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে রাত ১০টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে ঝুমুরের মরদেহ দাফন করা হয়।

নিহতের বাবা আব্দুল করিম খান অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ে স্বামী শাহারিয়া কাজী, শাশুড়ি রুনু বেগম, ননদ নাজমিন বেগম, শারমিন ও রিয়া খানম এবং নাজমিনের স্বামী সাইদুল হাওলাদারের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন। বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, পাঁচ শতাধিক বরযাত্রী না আনা এবং ঝুমুর দেখতে সুন্দরী নন—এমন নানা অজুহাতে তাকে দীর্ঘদিন ধরে হেনস্তা করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঝুমুরের বাবা আরও জানান, তার জামাতা শাহারিয়া বর্তমানে কর্মসূত্রে কুয়েতে অবস্থান করছেন। তবে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের প্ররোচনায় মেয়ের ওপর তার মানসিক নির্যাতন আরও বেড়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি। একপর্যায়ে ঝুমুরকে তার একমাত্র মেয়েসহ স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন ঝুমুর।

পরিবারের অভিযোগ, গত ৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে শাহারিয়া ভিডিও কলে ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে বিষপান করে মারা যেতে বলেন। স্বামীর এমন আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে ঝুমুর বিষপান করেন বলে দাবি স্বজনদের।

বিষপানের পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ওই রাতেই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে ঝুমুরের মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিষপানের পর আগৈলঝাড়া, বরিশাল ও ঢাকার তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এবং পরবর্তী সময়ে মরদেহ দাফন পর্যন্ত ঝুমুরের স্বামীর পরিবারের কোনো সদস্য তার পাশে ছিলেন না।

মঙ্গলবার রাতে জানাজায় অংশ নেওয়া স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে ঝুমুরের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে নিহত ঝুমুরের স্বামী শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের পরিবারের কোনো সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহতের পরিবার জানায়, কয়েক মাস আগে ঝুমুরের ২০ বছর বয়সী একমাত্র ভাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ঝুমুরের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পরিবারটি ফের গভীর শোকে নিমজ্জিত হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো উত্তর শিহিপাশা গ্রামেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর