শিরোনাম
আছে নারী কেলেঙ্কারির মত অপরাধ

নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রাকাবের ডিজিএম শাহীনুরের বিরুদ্ধে

নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রাকাবের ডিজিএম শাহীনুরের বিরুদ্ধে

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. শাহীনুর ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, পদায়নে ঘুষ গ্রহণ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও নারী সহকর্মীদের হয়রানিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। 

বর্তমানে শাহীনুর ইসলাম রাকাবের প্রধান কার্যালয়ে মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধ ও শাখা নিয়ন্ত্রণ বিভাগে কর্মরত। সম্প্রতি তিনি ব্যাংকার্স ক্লাব, রাজশাহীর ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলেন শাহীনুর। জয়পুরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বগুড়া (দক্ষিণ) জোনে জোনাল ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ ও পদায়নকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন শাহীনুর। ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ক্যাশিয়ার ও নিরাপত্তা প্রহরীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কাছ থেকে ৭ থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে। চাকরির আশ্বাস দিয়ে বেকার যুবকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া নিজের ভাই, শ্যালক, খালাতো ও ফুফাতো ভাইসহ একাধিক আত্মীয়কে ব্যাংকের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর শ্যালক আজিজুল ইমরানের ব্যাংকের একটি প্রকল্পে কর্মরত থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

শাখা ব্যবস্থাপক পদে পদায়নের ক্ষেত্রেও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ে পদায়নের জন্য এক থেকে দেড় লাখ টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ে দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো। চাহিদামতো অর্থ না দিলে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শোকজ, দূরবর্তী স্থানে বদলি এবং বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনে (এসিআর) নেতিবাচক মন্তব্যের ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

বাৎসরিক হিসাব সমাপনীতে বাজেটের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেখিয়ে ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

শাহীনুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের নামে বগুড়া, জয়পুরহাট ও রাজশাহী অঞ্চলে একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি, প্লট, জমি, বাগান ও খামার থাকার অভিযোগ রয়েছে। বগুড়ার তিনমাথা রেলগেট এলাকায় পাঁচতলা ভবন এবং জলেশ্বরীতলায় একাধিক দামি ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর শ্যালক আজিজুল ইমরানের নামে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাঁচশীরা মোড় রোড এলাকায় প্রায় ৩০ শতক জমি কেনার তথ্য সামনে এসেছে। জমিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।

এদিকে, অধীনস্থ নারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক এবং তাঁদের মানসিকভাবে হয়রানির অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। ব্যাংকের ঢাকার একটি শাখার এক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগের কিছু ছবি ও হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্কীনশট এবং ওই নারীর সাথে সেলফি ও অন্তরঙ্গ মুহুর্তের 
কিছু এসেছে নিখাদ খবরের হাতে।

অভিযোগ রয়েছে, বগুড়া (দক্ষিণ) জোনে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগের পর তাঁকে সরিয়ে রাকাবের প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. শাহীনুর ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে এবং অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়েও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর