শিরোনাম

সৈয়দপুরে অসহায় বৃদ্ধার থাকার ঘর করে দিলেন অধ্যক্ষ লুৎফর চৌধুরী

সৈয়দপুরে অসহায় বৃদ্ধার থাকার ঘর করে দিলেন অধ্যক্ষ লুৎফর চৌধুরী

নাম তাঁর ভালো রানী দাস। বয়স শতবর্ষের কাছাকাছি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে স্বামী কোথায়, নিজের স্থায়ী ঠিকানা কোথায়—কিছুই যেন আর মনে নেই। স্বজন থাকলেও তাঁদের কোথায় পাওয়া যাবে, সেই স্মৃতিও হারিয়ে গেছে বয়সের ভারে। ভিটেমাটি বলতে কিছু নেই। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার হাজারীহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক কোণে একটি ভাঙাচোরা একচালা ঘরই ছিল তাঁর শেষ আশ্রয়।

রোদ, বৃষ্টি আর ঝড়ের সঙ্গে লড়াই করেই সেই ঘরে দিন-রাত কাটছিল ভালো রানীর। পুরোনো কাপড় ও পলিথিনে ঘেরা ঘরটির চাল ছিল জরাজীর্ণ। সামান্য বৃষ্টি হলেই চাল দিয়ে পানি পড়ত। ভিজে যেত কাপড়চোপড়সহ ঘরের সবকিছু। শুকনো জায়গার অভাবে রাতের পর রাত ঘরের এক কোণে বসেই কাটাতে হতো তাঁকে।

সম্প্রতি একদিনের বৃষ্টিতে তাঁর সেই শেষ আশ্রয়টুকুও আরও নাজুক হয়ে পড়ে। বৃষ্টির পানি পড়ে ঘরের ভেতর ভিজে যায় সবকিছু। মশার উপদ্রবের পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়ায় ঘরটি কখন ভেঙে পড়ে—সেই আতঙ্কও ছিল বৃদ্ধার।

ভালো রানীর এই অসহায় জীবনের কথা জানতে পারেন হাজারীহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর চৌধুরী। খবর পেয়েই তিনি ছুটে যান বৃদ্ধার কাছে। সেখানে গিয়ে তাঁর জীবনযাপনের বাস্তব চিত্র দেখে উদ্যোগ নেন ঘরটি মেরামত করে দেওয়ার।

অধ্যক্ষ লুৎফর চৌধুরী বৃদ্ধার পাশে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। বৃষ্টিতে ঘরের সবকিছু ভিজে যাওয়ার কথা জানতে পারেন। পরে মানবিক বিবেচনায় জরাজীর্ণ চালাটি মেরামতের ব্যবস্থা করেন। এতে অন্তত বৃষ্টি ও ঝড়ের সময় ভালো রানীর মাথা গোঁজার নিরাপদ একটি জায়গা তৈরি হয়েছে।

ভালো রানীর জীবনযাপনের চিত্র মনে করিয়ে দেয় কবি জসীমউদ্‌দীনের ‘আসমানী’ কবিতার সেই অসহায় জীবনের কথা—যেখানে দরিদ্র মানুষের ঘরও প্রকৃতির কাছে নিরাপদ নয়। তবে ভালো রানীর জীবনে এবার সেই অসহায়তার মাঝে কিছুটা স্বস্তির জায়গা তৈরি হয়েছে।

অধ্যক্ষ লুৎফর চৌধুরী বলেন, একজন মানুষ জীবনের শেষ বয়সে এসে এমন কষ্টে থাকবেন—এটি দেখে নীরব থাকা সম্ভব ছিল না। তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী বৃদ্ধার থাকার জায়গাটি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্তত বৃষ্টির সময় তাঁকে ভিজতে না হয়।

ভালো রানীর চাওয়া অবশ্য খুব বেশি নয়। নেই সম্পদের আকাঙ্ক্ষা, নেই বড় কোনো স্বপ্ন। জীবনের শেষ দিনগুলোতে একটু নিরাপদ আশ্রয়, বৃষ্টির রাতে শুকনো একটি জায়গা আর নিশ্চিন্তে ঘুমানোর সুযোগ—এইটুকুই তাঁর প্রয়োজন।

একজন শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নয়—মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষাও সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া। ভালো রানীর পাশে দাঁড়িয়ে সেই মানবিকতারই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হাজারীহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর চৌধুরী।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর