পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পাশারির জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে জামালপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর শহরের দয়াময়ী মোড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জামালপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়কসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বীর মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যাঁরা জীবন বাজি রেখে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, মৃত্যুর পর তাঁদের শেষ বিদায়ে গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত অপমানজনক ও দুঃখজনক। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে কোনো মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে যাতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জামালপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার খন্দকার জালাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মুক্তাদির ও আব্দুল ছামাদ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ কারও দয়ার দান নয়। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা এ দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। যারা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরোধিতা করেন, তাঁদের এ দেশে না থেকে পশ্চিমবঙ্গে চলে যাওয়া উচিত। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ক্ষমতায় যেতে চায়। এ দেশের জনগণ তা কখনোই মেনে নেবে না। বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পাশারির জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
মানববন্ধন শেষে দয়াময়ী মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে গিয়ে শেষ হয়।