শিরোনাম

দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হারে তলানিতে পঞ্চগড়, চার প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল

দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হারে তলানিতে পঞ্চগড়, চার প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে আট জেলার মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে পঞ্চগড়। জেলাটিতে পাসের হার মাত্র ৩৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে, ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে রংপুর। দুই জেলার পাসের হারের ব্যবধান ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ পয়েন্ট।

বোর্ডের জেলা-ভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, রংপুরে পাসের হার ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ, নীলফামারীতে ৪৯ দশমিক ৯২, লালমনিরহাটে ৪৬ দশমিক ৭১, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪৫ দশমিক ০৩, দিনাজপুরে ৪৩ দশমিক ৮২, কুড়িগ্রামে ৪০ দশমিক ৭২, গাইবান্ধায় ৩৮ দশমিক ৮০ এবং পঞ্চগড়ে ৩৬ দশমিক ২৩ শতাংশ।

এ বছর পঞ্চগড় জেলা থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ৬ হাজার ৯৯৩ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ২ হাজার ৫২৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫১ জন শিক্ষার্থী।

জেলার ফলাফলে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে। প্রতিষ্ঠানটির এইচএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ট্রেড থেকে ১২ জন এবং ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ট্রেড থেকে একজনসহ মোট ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের কেউই পাস করতে পারেননি।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল বলেন, “আমি চলতি বছরের মে মাসে এখানে যোগদান করেছি। যোগদানের এক মাস পরই পরীক্ষা শুরু হয়। এই ফলাফলের পেছনে অন্যতম কারণ তীব্র শিক্ষকসংকট। প্রতিষ্ঠানে মোট ৪৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৭ জন শিক্ষক।”

দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ ছাড়াও জেলার আরও তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বোদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে আটজন, একই উপজেলার ঝলইশালশীরি একরামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে পাঁচজন এবং তেঁতুলিয়ার আলহাজ তমিজ উদ্দিন কলেজ থেকে দুজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করেননি। সব মিলিয়ে জেলায় চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি, সেগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি ও ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে প্রাতিষ্ঠানিক গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পাসের হারের পরিসংখ্যান দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক চিত্র নির্ধারণ করা যায় না। তবে ফলাফলের এ চিত্র জেলার শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং শিক্ষা প্রশাসনের তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর