শিরোনাম

বঙ্গবন্ধুর ব্রোঞ্জ ম্যুরাল প্রকল্পে অনিয়ম, ইনু-হাছান মাহমুদসহ আসামি ৮

বঙ্গবন্ধুর ব্রোঞ্জ ম্যুরাল প্রকল্পে অনিয়ম, ইনু-হাছান মাহমুদসহ আসামি ৮

বাংলাদেশ বেতারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্রোঞ্জ ম্যুরাল নির্মাণের নামে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে সাবেক দুই তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও মোহাম্মদ হাছান মাহমুদসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ঢাকায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন। দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন বাংলাদেশ বেতারের সাবেক মহাপরিচালক এ কে এম নেছার উদ্দিন ভূঞা ও নারায়ণ চন্দ্র শীল, উপ-স্টেশন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুর রহমান, সাবেক সিনিয়র প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং প্রকল্প পরিচালক প্রবাল কান্তি দাস। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের পক্ষে কাজী জাকির হাসান ও মলয় কুমার গাঙ্গুলী বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের আবেদন করেন। এর প্রায় দুই বছর পর, ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতার ভবনের অভ্যন্তরে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন ও নকশা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই বছরের ১৯ মে তৎকালীন মহাপরিচালক এ কে এম নেছার উদ্দিন ভূঞা এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠান।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ বেতারের শাহবাগ কমপ্লেক্স আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর, নির্মাণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভায় ম্যুরাল নির্মাণে সাত কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব আসে। একই বছরের ২৪ জানুয়ারি তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পের আওতায় ম্যুরাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির আরেক সভায় কাজটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা যুক্তিযুক্ত বলে উল্লেখ করা হয় এবং ব্যয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ৭ মে তৎকালীন মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীলের নির্দেশে ব্রোঞ্জ ম্যুরাল নির্মাণের ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। পরের বছর ১৪ জানুয়ারি প্রকল্প পরিচালক প্রবাল কান্তি দাস দরপত্রের মাধ্যমে ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেন। ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ম্যুরালের নকশা অনুমোদন করা হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদার ২০২৪ সালের ১২ জুন পর্যন্ত নয়টি বিলের মাধ্যমে মোট ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। তবে দুদকের অনুসন্ধানকালে বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করে সেখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের অপরিহার্য অংশ না হওয়া সত্ত্বেও পরস্পর যোগসাজশে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ম্যুরাল নির্মাণের কাজটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের ফলে সরকারের ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো উপাদান অপরিহার্য হলে তা ডিপিপি সংশোধনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তাঁর ভাষ্য, ব্রোঞ্জ ম্যুরাল নির্মাণ অপরিহার্য ছিল না; নীতিমালা লঙ্ঘন করে কাজটি প্রকল্পে যুক্ত করার মাধ্যমে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলে দুদকের অভিযোগ।

 

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর