শিরোনাম

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে কাজের গুণগত মান উন্নয়ন, ত্রুটি সংশোধন ও নিজস্ব প্রযুক্তিতে নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। রেলমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পরিদর্শন ও দিকনির্দেশনার পর কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন উদ্যম দেখা দিয়েছে। পুরোনো যন্ত্রাংশ উৎপাদন পুনরায় চালু, অব্যবহৃত লাগেজ ভ্যানকে যাত্রীবাহী কোচে রূপান্তর এবং কোচের বিভিন্ন কারিগরি সমস্যা সমাধানে নেওয়া হয়েছে কার্যকর উদ্যোগ।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কারখানায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর পুনরায় বাফার হুক উৎপাদন শুরু হয়েছে। প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের নিজস্ব দক্ষতা, মেধা ও শ্রমে কোচের গুরুত্বপূর্ণ এ যন্ত্রাংশ তৈরি করা হচ্ছে। সম্প্রতি কারখানা পরিদর্শনকালে এ উদ্যোগ প্রশংসা পায়।

এদিকে, ২০২০ সালে চীন থেকে আনা শতাধিক লাগেজ ভ্যান দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকায় সেগুলো থেকে কোনো আয় হচ্ছিল না। যাত্রী পরিবহনের চাহিদা বিবেচনায় কারখানার নিজস্ব প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এসব ভ্যানকে কমিউটার ট্রেনের লোকাল কোচে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে অব্যবহৃত রেলসম্পদের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

যাত্রীদের লাগেজ রাখার সমস্যা সমাধানেও উদ্যোগ নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। চীন থেকে সংগৃহীত এসি চেয়ার কোচে ৮০ জন যাত্রীর বিপরীতে মাত্র ৩০ জনের লাগেজ রাখার ব্যবস্থা ছিল। কারখানার নিজস্ব প্রযুক্তিতে লাগেজ র‌্যাক সম্প্রসারণ করে এ সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা ২০০৬ সালের ৫০টি ব্রডগেজ কোচের জানালা পুরোপুরি খোলা না যাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হতো। এ সমস্যা দূর করতে তুলনামূলক কম খরচে জানালার কাঠামো পরিবর্তন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর রেলমন্ত্রীর কারখানা পরিদর্শনের সময় একটি কোচের জানালার ফিনিশিং নিয়ে আলোচনা হয়। কারখানা সূত্রের দাবি, ওই কোচটি তখন ক্যারেজ শপে সংস্কারাধীন ছিল এবং পরিবর্তনের প্রাথমিক নমুনা হিসেবে দেখানো হচ্ছিল। কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় তখন কিছু ত্রুটি দৃশ্যমান ছিল। মন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট ত্রুটি সংশোধন এবং কাজের ফিনিশিং উন্নত করার কার্যক্রম চলছে।

কারখানার কর্মকর্তা ও শ্রমিকেরা বলছেন, সীমিত জনবল ও কাঁচামালের সংকটের মধ্যেও তাঁরা পুরোনো কোচ সচল রাখা, যন্ত্রাংশ তৈরি এবং রেলওয়ের ব্যয় সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের মতে, নিজস্ব উদ্ভাবন ও কারিগরি দক্ষতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে রেলওয়ের যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব।

এদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে নতুন কোচ সংযোজনের কাজও চলছে। এসব কোচের অধিকাংশ ঢাকাগামী আন্তনগর ও বিশেষ ট্রেনে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ক্যারেজ শপের ইনচার্জ মমিনুল ইসলাম বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে নতুন কোচ সংযোজন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যাত্রীরা যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।

কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ বলেন, রেলমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার পর কর্মকর্তা, শ্রমিক ও কর্মচারীরা নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছেন। প্রতিটি কাজের মান উন্নয়নে তাঁরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন। জনবল ও কাঁচামালের সংকট থাকলেও বিদ্যমান সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, কারিগরি দক্ষতা, নিজস্ব উদ্ভাবন ও কাজের মান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যাত্রীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর