দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবিসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে আনসার। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে আনসার সদর দপ্তরের ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। এসব অভিযানে আনসার ব্যাটালিয়নও অংশ নেবে। পুলিশ, বিজিবি, এসআরবিসহ অন্যান্য বাহিনীও সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, এটি নতুন কোনো বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা নয়; বরং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের মতো অপরাধ দমনে বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় সব সময়ই রয়েছে। এখন এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
ডিসেম্বর মাস ঘিরে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস। এ মাসে কোনো অপশক্তি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কিছু সদস্য আগের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নাশকতার পরিকল্পনা করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলার বিষয় নজরে এলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্টদের শুধু দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না সরকার; তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে ফৌজদারি আইনে অভিযোগ আনা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আনসার সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য তেজগাঁওয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৪৫ একর বা ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আনসারের জন্য পরিকল্পিত স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের আকাঙ্ক্ষা ছিল। এ বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।