শিরোনাম

হোটেল কর্মচারীদের ‘কিশোর গ্যাং’ আখ্যা দিয়ে ছবি প্রচারের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

হোটেল কর্মচারীদের ‘কিশোর গ্যাং’ আখ্যা দিয়ে ছবি প্রচারের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে একটি খাবার হোটেলের কর্মচারীদের ছবি তুলে তাঁদের ‘কিশোর গ্যাং’ হিসেবে চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে কোম্পানীগঞ্জ থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। পরে ওই কর্মচারীদের ছবি ব্যবহার করে একটি অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এলাকার বাইরের কর্মীদের শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে ছবিগুলো তোলা হয়েছিল; তাঁদের ‘কিশোর গ্যাং’ হিসেবে প্রচার করার বিষয়ে তাঁরা অবগত নন।

গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজারের একটি খাবার হোটেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন হোটেল কর্তৃপক্ষ।

হোটেলের ব্যবস্থাপক আব্দুল্যাহ জানান, হোটেল বন্ধ করার কিছুক্ষণ আগে কয়েকজন পুলিশ সদস্য সেখানে যান। এ সময় হোটেল পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের একসঙ্গে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলা হয়। পাশাপাশি তাঁদের নাম-ঠিকানা একটি খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয় এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আব্দুল্যাহর দাবি, কর্মচারীরা ছবি তোলার কারণ জানতে চাইলে এসআই নজরুল তাঁদের বিয়ে করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ঠাট্টা করেন। কিন্তু ঘটনার দুই দিন পর একটি অনলাইন পোর্টালে তাঁদের ছবি প্রকাশ করে ‘কিশোর গ্যাং’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে কর্মচারীদের আটক করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় হোটেলের কর্মচারী, কর্তৃপক্ষ ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলে দাবি করেন ব্যবস্থাপক। তাঁর ভাষ্য, পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের এভাবে ‘কিশোর গ্যাং’ হিসেবে উপস্থাপন করায় তাঁদের সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কর্মচারীদের ছবি তোলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অপরাধের তথ্য ছিল কি না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই নজরুল বলেন, হোটেলের কর্মচারীরা ওই এলাকার বাসিন্দা কি না, তা নিশ্চিত হওয়া এবং তাঁদের শনাক্ত করার জন্য ছবি তোলা হয়েছিল। তবে ওই ছবি ব্যবহার করে ‘কিশোর গ্যাং’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত কর্মকর্তা মনজুরুল জানান, এলাকার বাইরের ছেলেদের শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে ছবিগুলো তোলা হয়েছিল। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছবিগুলো ‘কিশোর গ্যাং’ আখ্যা দিয়ে প্রচার এবং পরবর্তী সময়ে সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, “আমাদের কাছে কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে এমন তথ্যই দেওয়া হয়েছে।” তবে তথ্যটি ভুল হয়ে থাকলে কে বা কারা তা দিয়েছেন, তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর