‘খেলাধুলায় সম্পৃক্ততা, সমাজে সম্প্রীতি ও অপরাধমুক্ত পরিবেশ’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথমবারের মতো আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ শেষ হয়েছে। ফাইনালে নাচোল থানাকে ৫৬-২৮ পয়েন্টে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা। নাচোল থানা হয়েছে রানারআপ।
রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা (পুরাতন) স্টেডিয়ামে দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালকে ঘিরে স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে প্রতিযোগিতা। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে সদর মডেল থানা।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ। সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. একরামুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইয়াসির আরাফাত এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া।
এ সময় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মো. ওবাইদুল, সদর মডেল থানার ওসি মো. একরামুল হোসাইন, শিবগঞ্জ থানার ওসি মো. মতিউর রহমান, গোমস্তাপুর থানার ওসি মো. নূরে আলম, ভোলাহাট থানার ওসি মো. আব্দুল বারিক, নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও দর্শনার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের মতে, কমিউনিটি পুলিশিংকে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়।
ফাইনালকে ঘিরে পুরাতন স্টেডিয়াম পরিণত হয় মিলনমেলায়। মাঠে খেলোয়াড়দের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর গ্যালারিতে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শেষ বাঁশির পর সদর মডেল থানার খেলোয়াড়দের উল্লাসে উৎসবের আমেজ আরও বেড়ে যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কাবাডি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোর অন্যতম। থানাভিত্তিক এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী খেলাটিকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও জনপ্রিয় করার পাশাপাশি স্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রত্যাশাও রয়েছে।