পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগের বিচার ও ঘটনা আপসের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার প্রতিবাদে ঝাড়ু ও জুতা হাতে বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় জাতীয় মহাসড়কের রবীন্দ্র স্মরণী বাইপাস এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।
এর আগে স্থানীয় নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন বয়সী অর্ধশতাধিক মানুষ ঝাড়ু ও জুতা হাতে নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির গ্রামের কাছ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত সানোয়ার হোসেনের বিচার ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ঘটনা আপসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়ার নাম উল্লেখ করেও স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে তেঁতুলিয়ার তাইয়াগছ এলাকায় প্রতিবেশী এক বৃদ্ধ সানোয়ার হোসেন ছয় বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও থানায় মামলা না করে একটি পক্ষ বিষয়টি আপসের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়া ভুক্তভোগী পরিবারকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে আপস করিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তারা প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তের স্বজনদের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
তবে আপসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুলতানা রাজিয়া। তিনি বলেন, গত ১৫ আগস্ট থেকে ছেলের পরীক্ষার কারণে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। কারা বিচার-সালিশ করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তাঁকে কেন এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে, সেটিও তাঁর জানা নেই। এ ঘটনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা করতে যায়নি।
অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান এবং শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম।
পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি লাইছুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, ঘটনার আপসের চেষ্টা এবং এতে কারও সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো এখনো তদন্তসাপেক্ষ। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।