দেশে অতিবৃষ্টির কারণে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। আমদানির দ্বিতীয় দিনেই রেকর্ড পরিমাণ ৪৬৮ মেট্রিক টনের বেশি কাঁচা মরিচ দেশে এসেছে। এতে বাজারে মরিচের দাম কমতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
কাস্টমস সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ৩৯টি ট্রাকে করে ভারত থেকে ৪৬৭ দশমিক ২২২ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ ভোমরা স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। বন্দর ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতেই চালানগুলো ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।
ভোমরা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মো. মোস্তফা কামাল জানান, বিভিন্ন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব মরিচ দেশে আনা হয়েছে। মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কাগজপত্র যাচাই ও খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারেও আরও কয়েকটি ট্রাক প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে, যা বুধবার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
আমদানিকারকদের সূত্রে জানা যায়, সরকারের অনুমোদনের পর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি (আইপি) পেয়েছেন।
ভোমরা বন্দরের আমদানি সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত আমদানি মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজির মূল্য প্রায় ২৪ টাকা। এর সঙ্গে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক যুক্ত হওয়ায় আমদানি ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭৮ টাকা। তবে পরিবহন, বন্দর, কাস্টমস ও খালাসসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ হওয়ায় প্রকৃত খরচ আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।
তাদের আশা, এসব খরচ বিবেচনায় দেশে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি করা সম্ভব হবে।
এদিকে, মঙ্গলবার সাতক্ষীরার বিভিন্ন কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আমদানির পরিমাণ আরও বাড়লে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং কাঁচা মরিচের দাম ধীরে ধীরে কমে আসবে।