শিরোনাম

সাতক্ষীরায় ১৬ মাদ্রাসাছাত্রীর বাল্যবিয়ের অভিযোগ, তলব ১৬ অভিভাবককে

সাতক্ষীরায় ১৬ মাদ্রাসাছাত্রীর বাল্যবিয়ের অভিযোগ, তলব ১৬ অভিভাবককে

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির ১৬ ছাত্রীর বাল্যবিয়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নেমেছে প্রশাসন। বিয়ের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ১৬ ছাত্রীর অভিভাবককে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরার স্বাক্ষর করা পৃথক নোটিশে অভিভাবকদের এ নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে বাল্যবিয়ের বিষয়ে পৃথকভাবে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি বিয়েসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে অভিভাবকদের উপস্থিত থাকতে হবে।

অভিভাবকদের সঙ্গে বিয়ে হওয়া ছেলে-মেয়েদের জন্মসনদ, বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, বিয়ের কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য আনতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিয়ের সাক্ষীদেরও উপস্থিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাল্যবিয়ের অভিযোগকারী হিসেবে জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মো. সাকিবুর রহমান বাবলার নাম নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশ পাওয়া অভিভাবকরা হলেন—পারশালো গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও আশরাফুল ইসলাম, মাছখোলা গ্রামের ইসমাইল হোসেন, হারুন অর রশিদ, মো. শাহাজান, শাহাজান মোল্লা, হাবিবুল্লাহ, সিরাজুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, মাখফুর রহমান, কামরুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন, শাল্যে গ্রামের আব্দুল গফুর গাজী ও ইবাদুল ইসলাম এবং শালো গ্রামের আব্দুল্লাহ ও বকুল হোসেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিভাবকদের বক্তব্য, বিয়ের নথি ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্কের বিয়ে দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট ছেলে-মেয়ে ও সাক্ষীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার সুপারকে অনুরোধ জানিয়েছে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর।

জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মো. সাকিবুর রহমান বাবলা বলেন, সাতক্ষীরায় উদ্বেগজনক হারে বাল্যবিবাহ বাড়ছে। সম্প্রতি তালা উপজেলার ইসলামকাটি বালিকা বিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে তাদের আবার শ্রেণিকক্ষে ফেরানো হয়। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া এবং স্বামীর বাড়িতে না যাওয়ার অঙ্গীকারও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রশাসনের এই তদন্তে ১৬ ছাত্রীর বিয়ের বয়স, বিয়ের নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর