প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে নীলফামারীর সৈয়দপুরে দীর্ঘদিনের পুরোনো ময়লার ভাগাড় বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের পাশে অবস্থিত ভাগাড়টিতে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা বর্জ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে হঠাৎ করেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, জনদুর্ভোগ লাঘবে নিয়মিত উদ্যোগ কেন নেওয়া হয়নি।

আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সৈয়দপুর হয়ে রংপুর সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর আগমন উপলক্ষে পৌরসভার উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, ময়লার স্তূপে বালু ফেলা এবং সড়ক বিভাজকে রং করার কাজ চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুর শহরের টার্মিনাল এলাকা থেকে বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার পথে পার্বতীপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লার স্তূপ বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়সংলগ্ন পৌরসভার ভাগাড়টিও বালু দিয়ে ঢেকে রাখায় এলাকাটি আগের তুলনায় পরিচ্ছন্ন দেখাচ্ছে। সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে এই সড়ক দিয়েই রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে শহরের বাসাবাড়ি, হাসপাতাল ও হোটেল থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য ওই স্থানে ফেলা হচ্ছিল। উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য জমে থাকায় আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত। এতে সড়ক ব্যবহারকারী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সড়কের পাশ থেকে ভাগাড়টি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ভাগাড়ের কিছু বর্জ্য সরিয়ে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং সড়ক বিভাজক রং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজার রহমান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার দাবি জানিয়ে আসছি। দুর্গন্ধের কারণে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এত দিন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এখন প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জায়গাটি পরিষ্কার করে বালু ফেলা হয়েছে।”
পথচারী সফিয়ার রহমান বলেন, “এই সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধে নাক চেপে রাখতে হতো। শহরের বিভিন্ন জায়গার ময়লা এনে এখানে স্তূপ করে রাখা হতো। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এখন পরিষ্কার করছে। এভাবে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হলে আমাদের চলাচলে সুবিধা হবে।”
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর পৌরসভার ওপর দিয়ে রংপুরে যাবেন। আমরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ শহরের বিভিন্ন জায়গায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গার রং ও ডিভাইডার মেরামত করছি। এ ছাড়া যেসব স্থানে ময়লার স্তূপ রয়েছে, সেগুলো বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।”
তবে সাময়িকভাবে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পরিবর্তে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান চান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হলেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী ভাগাড়টি নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।