বদলিতে তদবির, প্রভাব বিস্তার ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সুযোগ বন্ধ করতে অভিনব পদ্ধতি নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। জেলার সাতটি ভূমি অফিস ও রাজস্ব সার্কেলে কর্মরত ৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে কর্মস্থল নির্ধারণ হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত তদবির বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রাখা হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে এ লটারি অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, উন্মুক্ত ও সর্বসম্মতভাবে লটারির মাধ্যমে বদলি হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন কর্মস্থল নির্ধারণ করা হয়। ফলে কে কোন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারণে ব্যক্তিগত পছন্দ বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ ছিল না।
লটারির আওতায় থাকা কর্মস্থলগুলো হলো—সাভার উপজেলা ভূমি অফিস, ধামরাই উপজেলা ভূমি অফিস, আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল, উত্তরখান ভূমি অফিস (ক্যান্টনমেন্ট সার্কেল), বালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস (ধামরাই), কেরাণীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস এবং জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস (নবাবগঞ্জ)।
লটারির মাধ্যমে বদলি হওয়া ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন দুজন চেইনম্যান, তিনজন অফিস সহায়ক, একজন মালি, একজন অফিস সহকারী, একজন সার্টিফিকেট সহকারী ও একজন প্রধান সহকারী।
কেন লটারিতে বদলি
জেলা প্রশাসন সূত্রের মতে, ভূমি অফিসগুলোতে নাগরিকরা সরাসরি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যক্তি বা সেবাগ্রহীতাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একই সঙ্গে বদলির ক্ষেত্রে তদবির ও প্রভাব বিস্তারের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
এসব সম্ভাবনা কমিয়ে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই লটারির মাধ্যমে কর্মস্থল নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “ভূমি অফিসের মতো সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অন্যায় তদবির ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই আমরা লটারির পথ বেছে নিয়েছি। এতে কারও প্রতি পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকবে না।”
তিনি বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কর্মস্থলে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাবেন—এটাই জেলা প্রশাসনের প্রত্যাশা।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে সেবাগ্রহীতাদের আস্থাও বাড়বে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, উন্মুক্তভাবে লটারির মাধ্যমে কর্মস্থল নির্ধারণ হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি তাদের কাছে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এতে বদলি নিয়ে পক্ষপাতিত্ব বা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার সুযোগও কমেছে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বদলি প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত লটারি পদ্ধতি অনুসরণ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভূমি সেবায় অনিয়ম ও তদবিরের সুযোগ কমিয়ে নাগরিকদের জন্য আরও নিরপেক্ষ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে।