ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জ্ঞানেশ কুমারকে যেভাবে রাজনৈতিক সমালোচনা থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তাতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে প্রটোকল ও শিষ্টাচারের যুক্তি তুলে ধরা এবং নির্দিষ্ট প্রতিনিধি পাঠানোর শর্ত দেওয়ার বিষয়টিও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ সংসদ সদস্যসহ বিরোধী দলের নেতারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নিলেও তাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের পরিবর্তে পুলিশকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে। সমালোচকদের মতে, এমন আচরণ নির্বাচন কমিশন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার দূরত্ব বাড়াচ্ছে।
ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন—এসআইআর) প্রক্রিয়াও বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, ভোটার তালিকা সংশোধনে ব্যবহৃত পদ্ধতি মুসলিম, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকারকে অসমভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, বিষয়টি কেবল নির্বাচনি হিসাব-নিকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার আশঙ্কাও এর সঙ্গে যুক্ত। তাদের অভিযোগ, এর ফলে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার চর্চায় বৈষম্যের শিকার হতে পারে।
তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য স্বাধীন যাচাই ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।