বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের লক্ষীখালী বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা একটি চায়ের দোকান দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মো. ইদ্রিস হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন দোকানটির মালিকানা দাবি করা নরেন বিশ্বাস নামের এক ভূমিহীন ব্যক্তি।
নরেন বিশ্বাসের দাবি, প্রায় ৩৫ বছর ধরে লক্ষীখালী বাজারে ছোট একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। সম্প্রতি সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে দোকানটি সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু করলে ইদ্রিস হাওলাদার এতে বাধা দেন এবং দোকানটি নিজের বলে দাবি করেন।
নরেন বিশ্বাস বলেন, “সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে দোকানটি মেরামতের কাজ শুরু করেছিলাম। কাজ শুরু করার পর ইদ্রিস হাওলাদার এসে বাধা দেন। পরে দোকানে তালা লাগিয়ে দেন। স্থানীয় লোকজন তালা খুলে দিলে আবার দোকানে বসি। এরপর উন্নয়নকাজ শুরু করতে গেলে ফের বাধা দেওয়া হয়।”
স্থানীয়দের বক্তব্য
সরেজমিনে লক্ষীখালী বাজারে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই চায়ের দোকানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন নরেন বিশ্বাস। গত বুধবার দোকানের উন্নয়নকাজ শুরু করার পর এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সময় ইদ্রিস হাওলাদার ও তার লোকজন নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং দোকানে তালা লাগানোর ঘটনা ঘটে।
লক্ষীখালী বাজার কমিটির সভাপতি মিল্টন ডাকুয়া বলেন, “নরেন বাবু দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে দোকানটি চালাচ্ছেন। পাশের দুটি দোকান পাকা ভবন হওয়ায় তিনিও দোকানটি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। আমরা বিষয়টি দেখে মনে করছি, নরেনের প্রতি অন্যায় হচ্ছে।”
ইদ্রিসের দাবি, দোকান কিনেছেন তিনি
অভিযোগ অস্বীকার করে মো. ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, “আমি ২০০৯ সালে নরেন বিশ্বাসের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে দোকানঘরটি কিনেছি। তখন তার সমস্যা ছিল। এখন যে ঘরটি দেখছেন, এর ১৫টি খুঁটিও আমার। সে টাকা আমাকে দেয়নি।”
তিনি বলেন, দোকানের উন্নয়নকাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে দোকানটির মালিকানা নিজের দাবি করে তিনি বলেন, নরেন বিশ্বাস তার কথা মানেননি।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দোকানে বাধা দেওয়ার ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। দোকানটির মালিকানা বা দখল নিয়ে উভয় পক্ষের দাবির বিষয়ে কোনো আদালতের আদেশ বা সরকারি নথি প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।