শিরোনাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডাকঘরে কী ঘটেছে?

সৌদি আরব থেকে ২৯.৯ কেজির পার্সেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসে ১৯.৭ কেজি!

সৌদি আরব থেকে ২৯.৯ কেজির পার্সেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসে ১৯.৭ কেজি!

সৌদি আরব থেকে পাঠানো ২৯ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের পার্সেল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরে পৌঁছে ওজনে পাওয়া গেছে ১৯ কেজি ৭০০ গ্রাম। প্রেরকের উল্লেখ করা ওজনের সঙ্গে পার্সেলের ওজনের পার্থক্য ১০ কেজি ২০০ গ্রাম। পার্সেল থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল কম পাওয়ার অভিযোগে ডাক বিভাগের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন ভুক্তভোগী মো. আতিকুর রহমান।

এ ঘটনায় পার্সেল গ্রহণের সময় ডাকঘরের পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার এবং পরে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার জিনাত রেহানা।

ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পশ্চিম পাইকপাড়ার বাসিন্দা। তিনি জানান, সৌদি আরব থেকে তাঁর নামে উন্নতমানের খেজুর, লোশন, ক্রিম, সাবান, চকলেট ও জুতাসহ বিভিন্ন পণ্য একটি কার্টনে পাঠানো হয়।

গত রোববার (৪ অক্টোবর) পার্সেলটি গ্রহণের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘর থেকে তাঁকে ফোন করা হয়। পরদিন সোমবার (৫ অক্টোবর) পার্সেল নিতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, কার্টনটির দুই পাশ ছেঁড়া। কার্টনের গায়ে ওজন ২৯ দশমিক ৯০ কেজি লেখা থাকলেও ডাকঘরের ডিজিটাল স্কেলে ওজন পাওয়া যায় ১৯ দশমিক ৭০ কেজি।

আতিকুর রহমানের অভিযোগ, পার্সেলটি ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়ার পর আপত্তি জানালে পোস্টমাস্টার জিনাত রেহানা তাঁকে বলেন, পার্সেলটি ছেঁড়া অবস্থাতেই গ্রহণ করা হয়েছে, তাই এ বিষয়ে তাঁদের কিছু করার নেই।

ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, পার্সেল ছেঁড়া ও ওজনে কম থাকার বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরও কেন তাঁকে সেটি গ্রহণ করতে বলা হচ্ছে? জবাবে পোস্টমাস্টার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দাপ্তরিকভাবে নোট রাখা হয়েছে বলে জানান। এ সময় শুল্ক ও মাশুল বাবদ নির্ধারিত ৭ হাজার ৯৮৮ টাকা পরিশোধ করে পার্সেলটি নিতে তাঁকে চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন আতিকুর রহমান।

পরে উপস্থিত অন্য ডাক কর্মকর্তাদের পরামর্শে টাকা পরিশোধ করে পার্সেলটি খুলে দেখেন তিনি। তাঁর দাবি, ভেতরে থাকা প্রতিটি প্যাকেট খোলা ছিল। খেজুর, লোশন, ক্রিম, সাবান ও চকলেটসহ অধিকাংশ মালামাল পাওয়া যায়নি।

আতিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, মালামাল কম পাওয়ার বিষয়ে প্রতিকার চাইতে গেলে পোস্টমাস্টার তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। লিখিত অভিযোগ জমা দিতেও তাঁকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় এবং অভিযোগের গ্রহণপত্রে সিল দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। বাড়ি ফেরার পর ডাকঘর থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ফোন করে বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দেন বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার জিনাত রেহানা বলেন, তাঁদের ডাকঘরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী পার্সেলের প্যাকেট খোলেননি। চট্টগ্রাম থেকে যেভাবে পার্সেলটি এসেছে, তাঁরা সেভাবেই পেয়েছেন। ওজনে কম থাকার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে পরবর্তী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর