বলিউড তারকা সালমান খানের নাম জড়িয়ে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা নিয়ে নির্মিত ‘কালা হিরাণ: ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ সিনেমার মুক্তি বন্ধের আবেদন ঘিরে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। সিনেমাটির প্রযোজক অমিত জানি দিল্লি হাইকোর্টের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ বিষয়ে প্রযোজকের মামলা খারিজের আবেদনের পর সালমান খানের জবাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছেন আদালত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ এ নোটিশ জারি করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৬ ডিসেম্বর।
প্রযোজকের আইনজীবীর দাবি, সালমান খান মুম্বাইয়ে এবং অমিত জানি উত্তর প্রদেশের মিরাটে বসবাস করেন। তাঁদের কেউই দিল্লিতে থাকেন না বা সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করেন না। ফলে এ মামলা শুনতে দিল্লি হাইকোর্টের এখতিয়ার নেই।
আবেদনে আরও বলা হয়, সিনেমাটির টিজার, পোস্টার ও প্রচারসামগ্রী দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া গেলেও শুধু এ কারণে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করার এখতিয়ার সৃষ্টি হয় না। সিনেমাটি বিশেষভাবে দিল্লির দর্শকদের লক্ষ্য করে প্রচার করা হয়েছে কিংবা সেখানে সালমান খান কোনো ক্ষতির শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগও মামলায় নেই বলে দাবি করেছেন প্রযোজকের আইনজীবী।
অন্যদিকে, সালমান খানের অভিযোগ, সিনেমাটি তাঁকে এবং ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত। প্রযোজক অমিত জানি প্রকাশ্যেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সিনেমার নাম, প্রচারসামগ্রী, চরিত্রের আচরণ ও ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে তাঁকে তুলে ধরা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন সালমান।
মামলায় সালমান আরও উল্লেখ করেছেন, কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় দায়ের করা চারটি মামলার মধ্যে তিনটিতে তিনি খালাস পেয়েছেন। এ ঘটনায় করা আপিল ও বিশেষ অনুমতির আবেদন রাজস্থান হাইকোর্ট এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সালমানের বক্তব্য, বিচারাধীন ঘটনাকে সিনেমায় নাটকীয় বিচারপ্রক্রিয়ার মতো উপস্থাপন করা হলে তাঁর ন্যায্য বিচারের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, সিনেমার টিজার ও প্রচারসামগ্রীতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাঁকে বিচারাধীন অপরাধগুলোর জন্য দায়ী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এখন দিল্লি হাইকোর্টে মামলাটির এখতিয়ার নিয়ে প্রযোজকের আপত্তি এবং সিনেমাটির বিরুদ্ধে সালমান খানের অভিযোগ—দুই বিষয়েই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে।