নিজের দুই ছেলেকে মাদক মামলায় জড়ানোর ঘটনায় স্পেশাল রেসপন্স টিমের (এসআরবি-৫) অভিযানের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দীন। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁর দুই ছেলেকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের উমরপুরে নিজ বাড়ির সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মফিজ উদ্দীন।
লিখিত বক্তব্যে মফিজ উদ্দীন বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর বাড়ির সামনের আমবাগানে জ্বালানি কাঠ ও খড় রাখার একটি ঘরে অভিযান চালায় এসআরবি-৫-এর রাজশাহীর একটি দল। অভিযানের সময় ওই স্থান থেকে ৬ কেজি ৭৫১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের দাবি করা হয়। এরপর তাঁর ছোট ছেলে মেহেদি হাসানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আটক করা হয়। পরে ওই ঘটনায় দায়ের করা মাদক মামলায় তাঁর মেজো ছেলে আল মামুনকেও আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তাঁর দাবি, ঘটনার সময় আল মামুন শিবগঞ্জে ছিলেন না; তিনি রাজশিয়ায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। উদ্ধার করা হেরোইনের সঙ্গে তাঁর দুই ছেলে কিংবা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন মফিজ উদ্দীন। তাঁর ভাষ্য, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁদের মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে।
মফিজ উদ্দীন জানান, তাঁর মেজো ছেলে আল মামুন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদে চাকরি করতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। আর ছোট ছেলে মেহেদি হাসান স্বাস্থ্য বিভাগে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মফিজ উদ্দীনের স্ত্রী শেফালী বেগম, মেয়ে রিনা খাতুন, শিবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ইউনিট কমান্ডার বজলুর রশীদ সনুসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
বক্তারা অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কর্মসূচি দেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে এসআরবি-৫-এর কমান্ডিং অফিসারের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এসআরবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলনে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এসআরবি-৫-এর পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে মফিজ উদ্দীনের করা অভিযোগ ও অভিযানের বিষয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।